• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

দুই বছরে কতজনকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে জানালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

গত দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আসাম সরকার। এদের মধ্যে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘বিদেশি’ ঘোষিত ১৯৩ জনও রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া আসাম সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এসব ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের এক প্রশ্নের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ তথ্য জানান।

আসাম সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঠানো ১ হাজার ৬৭৯ জনকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে- ‘ডিপোর্ট’, ‘সেন্ট ব্যাক’ এবং ‘এক্সপেলড’। তাদের মধ্যে ১৯২ জনকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এছাড়া মরিয়ম বেগম নামে এক শিশুকন্যাকেও তার মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তার মাকেও ট্রাইব্যুনাল বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আসাম সরকার ঘোষিত বিদেশিদের ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর করে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় করা হয়নি। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০ পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দেয় রাজ্য সরকার এবং এ বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ আইনের আওতায় বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠানো ৬৭ জন ঘোষিত বিদেশির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন ছিলেন আসামে নগাঁও জেলার বাসিন্দা। এছাড়া কোকরাঝাড় থেকে ১৬ জন, বারপেটা থেকে সাতজন, চিরাং ও কার্বি আংলং থেকে চারজন করে, ডিমা হাসাও ও হোজাই থেকে তিনজন করে, কামরূপ (গ্রামীণ) ও ধুবড়ি থেকে দুজন করে এবং আরও কয়েকটি জেলা থেকে একজন করে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১২৬ জনকে ‘রিপ্যাট্রিয়েটেড’ বা ‘সেন্ট ব্যাক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে বদরুদ্দিন আজমল জানতে চান, বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন গুয়াহাটি হাইকোর্ট বা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন। জবাবে আসাম সরকার জানায়, উচ্চ আদালতে কোনো আপিল বিচারাধীন থাকলে কাউকে প্রত্যাবাসন করা হয় না। তবে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আগে আপিল করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টের ২৭টি রায় বাতিল করেন। ওই রায়গুলোতে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে বিদেশি ঘোষণার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। পরে ২৭টি মামলাই পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category