• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Headline
আলিয়ঁসে আজ শুরু হলো যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’ পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা চলছে: ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আকাশচুম্বী টিকিটের দাম: বিশ্বকাপের ফাঁকা গ্যালারি নিয়ে উদ্বেগ শ্রমিকের হাহাকারে মালিকদের বিপুল ভাগ্য ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তে হতবাক নেতানিয়াহু, জানতেন না কিছুই! ট্রাম্পের নতুন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ও সমঝোতার নেপথ্য কথা ইরানের সঙ্গে কাতারের গোপন আঁতাত! ফাঁস করল ওয়াশিংটন পোস্ট ছুটির দিনের বিকেলে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি, ভোগান্তিতে পথচারী সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

দেশজুড়ে ২০ হাজার কি.মি. খাল খনন শুরু: জিয়ার স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানের বড় চমক

Reporter Name / ১২৬ Time View
Update : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

সত্তরের দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খাল কাটার দৃশ্য দেশের মানুষের মনে এখনও গেঁথে আছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের জয়নগর খালটি সেই স্মৃতিরই একটি অংশ, যা আজ দখল আর দূষণে মৃতপ্রায়। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর বাবার সেই পথ অনুসরণ করেই দেশজুড়ে ফের বিশাল খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


প্রকল্পের আদ্যোপান্ত

নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার এই প্রকল্প। আজ (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালের ১২.২০ কিলোমিটার পুনঃখননের মাধ্যমে ৫৪ জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

  • খননের লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন করা হবে।

  • খরচ ও তদারকি: প্রতি কিলোমিটার খননে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে প্রধান করে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

  • জনসম্পৃক্ততা: শুধু যন্ত্র বা ড্রেজার দিয়ে নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে। এতে করে সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন, যা ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

কেন এই খাল খনন?

সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বহুমুখী সুবিধা:

  • কৃষিকাজে সেচের সুবিধা বাড়ানো এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো।

  • খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা।

  • খননকৃত জলাধারে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের সুযোগ সৃষ্টি।

  • আগামী ৫ বছরে খালপাড় ধরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

  • দখল ও দূষণ রোধ: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, শুধু খাল কাটলেই হবে না; এর দখল ও দূষণ কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে। দেশে হাজার হাজার অবৈধ দখলদার রয়েছে, যাদের না তাড়ালে এই প্রকল্প সফল হবে না।

  • দুর্নীতির শঙ্কা: শুধু রাজনৈতিক লোক দেখানো বা দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা দেওয়ার হাতিয়ার যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের আসল সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।

পরিশেষে, ইতিহাস বলছে খাল খনন কর্মসূচি জিয়াউর রহমানকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, তারেক রহমান এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কতটা সফলভাবে খালগুলোর প্রাণ ফেরাতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category