• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
Headline
ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতের এক পরিবার ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি কয়েদি: ভেঙে পড়ার মুখে দেশের কারা অবকাঠামো বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে শাহরুখ, অজয়, টাইগারকে নোটিশ আমদানি নির্ভরতার বিপরীতে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান: গ্যাস সংকটে ত্রিমাত্রিক জরিপ ও আধুনিক রিগেই টেকসই সমাধান গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে শিল্পচাকা: ঝুঁকিতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য নবায়নের মুখে তিন প্রধান ব্যান্ডের লাইসেন্স ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠন করছে সরকার : রিজভী নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: তথ্য উপদেষ্টা এ বছরের মধ্যেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী হাই স্কুল-মাদরাসায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নবায়নের মুখে তিন প্রধান ব্যান্ডের লাইসেন্স

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি মোবাইল তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) ব্যবস্থাপনা নীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। তরঙ্গকে কেবল সরকারের এককালীন রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা না করে একে জাতীয় ডিজিটাল রূপান্তর, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর আ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাব্লিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল সংলাপে খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিরা এই অভিমত প্রকাশ করেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বক্তারা স্পষ্ট করেন যে, সাশ্রয়ী মূল্যে পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের সার্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
টেলিযোগাযোগ খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে যখন ১৮ বছরের মেয়াদে অপারেটরদের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কোষাগারে সর্বোচ্চ রাজস্ব জমা করা। তবে বিগত প্রায় দেড় দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, তরঙ্গের চড়া মূল্য এবং অপর্যাপ্ত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের কারণে অপারেটরদের মূলধনি বিনিয়োগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোবাইল সেবার মান এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ওপর। চলতি বছরের শেষ নাগাদ মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত ৯০০, ১৮০০ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের বিদ্যমান তরঙ্গ নবায়নের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের চড়া মূল্যের নীতি অব্যাহত থাকলে তা অপারেটরদের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও প্রান্তিক পর্যায়ে সেবার মান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
সংলাপে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, সমপর্যায়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তরঙ্গের মূল্য এখনো অনেক বেশি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ আশ্বস্ত করে জানান, তরঙ্গ নবায়নের বিষয়ে কোনো অযৌক্তিক বা একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। গ্রাহকদের প্রকৃত চাহিদা, ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ব্যবসায়িক মডেল, নেটওয়ার্কের গুণগত মান এবং অপারেটরদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, টেলিযোগাযোগ নীতি প্রণয়ন ও তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভরতার কোনো সুযোগ নেই, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও গভীর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেই ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটবের সভাপতি এবং শীর্ষ অপারেটরদের প্রধান নির্বাহীরা তরঙ্গের বহুমুখী প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, তরঙ্গের মাধ্যমে সমাজে যে উন্নত সংযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়, তার সার্বিক মূল্য রাজস্ব প্রাপ্তির চেয়েও বহুগুণ বেশি।
অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় উঠে আসে যে, বিগত বছরগুলোতে জাতীয় রাজস্বে মোবাইল খাতের অবদান উত্তরোত্তর বাড়লেও বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যবসায়িক মুনাফা বা রিটার্ন ক্রমান্বয়ে কমেছে। ফলে স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য বজায় থাকলে নতুন প্রযুক্তির বিকাশ শ্লথ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম নিশ্চিত করা গেলে অপারেটররা দেশব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিতে বিপুল অর্থ পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবে। সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে আধুনিক স্মার্ট যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপান্তরে স্পেকট্রাম নীতিকে রাজস্ব আহরণের গণ্ডি থেকে মুক্ত করে জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করাই এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category