পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে শেষ মুহূর্তেও রাজধানী ছাড়ছেন অসংখ্য মানুষ। আজ শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। সকাল আটটার পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে নৌযানগুলো ঘাট ছাড়তে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকাসহ মোট ৩৭টি রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে লঞ্চগুলো গন্তব্যের দিকে রওনা দিচ্ছে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এবারের ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। নির্ধারিত ভাড়ায় নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরে যাত্রীরা যেমন সন্তুষ্ট, তেমনি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপক তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, নৌপথের মতো রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল থেকে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের ভোগান্তি চোখে পড়েনি। ঈদযাত্রার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ট্রেনের কামরাগুলো তুলনামূলক ফাঁকাই দেখা গেছে। রেলের নিয়মিত শিডিউলে কিছুটা পরিবর্তন আসায় গতকালের মতো আজও কাউন্টার ও অনলাইনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের কাঙ্ক্ষিত টিকিট অনায়াসেই সংগ্রহ করতে পারছেন অনেকে। কোনো রকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ করে টিকিট হাতে পেয়ে এবং ট্রেনগুলো ঠিক সময়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস ফুটে উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, শেষ দিনের এই যাত্রায় বেশিরভাগ ট্রেনই বিলম্ব ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে।