পর্যটন শিল্পের প্রসার ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি পুলিশের আধুনিকায়ন, জবাবদিহিতা, র্যাবের আইনি কাঠামো সংস্কার এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সুনাম অর্জন না হওয়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি সরাসরি জড়িত।
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং পর্যটকদের সংখ্যা বাড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইজিপিকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের অন্যান্য কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে সব পর্যায়ে বডি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পুলিশের প্রতিটি কাজ রেকর্ড করা থাকে।
জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের ন্যূনতম বলপ্রয়োগ নীতির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ দমন, তদন্ত বা প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রেখেই আইনানুগ ও কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক, শিল্পাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চার স্তরের (এপিবিএন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সেনাবাহিনী) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সাধারণ কার্যক্রমের বাইরে বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে যৌথবাহিনীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও অনলাইন জিডিসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা দ্রুততম সময়ে প্রদান করার কাজ চলছে। এক্ষেত্রে পূর্বের মতো ভোগান্তি বা হয়রানির কোনো অভিযোগ যেন আর না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বর্তমানে র্যাব পরিচালিত হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই, এটি মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি নির্দিষ্ট ধারার অধীনে কাজ করে।
এলিট ফোর্স হিসেবে এর সরঞ্জাম, জনবল, গোয়েন্দা সমর্থন এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে একটি পৃথক আইন বা আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন হবে কি না, তা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশের প্রতিটি আচরণে যেন রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন ঘটে এবং থানায় আগত সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া আইনি সাহায্য পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে এবং চেইন অব কমান্ড ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পাড়ায়-মহল্লায় অপরাধীদের অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে এবং তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পূরণে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তাবনা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ আকারে উপস্থাপন করবেন।