• বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

পুতিন-হাসিনা বৈঠকের কিচ্ছা: ভারতে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের ধুম 

Reporter Name / ১০০ Time View
Update : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

-রিন্টু আনোয়ার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদীকে গুলির প্রতিবাদে রাজনৈতিক বক্তারা বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদী অভ্যুত্থানের পূর্ব থেকে অভ্যুত্থানের পর পর্যন্ত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধের শিনা টান করে কথা বলে এসেছে। বিগত কয়েক মাসে এই বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে এমন অনেক মানুষকে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে।‘এ বুলেট শুধু হাদির মাথায় নয়, এ বুলেট বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া যে অভ্যুত্থান-সেই অভ্যুত্থানের বুকে করা হয়েছে।’ ‘আমাদের সামনে শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়, আমাদের সামনে বাংলাদেশকে রক্ষা করার লড়াই। আমাদের সামনে শুধু ভোটের লড়াই নয়, যারা বাংলাদেশকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’
বাংলাদেশ ৫ আগস্টের অতীতে ফিরে যাবে না, বাংলাদেশের ওপর দিল্লির দাসত্ব আর কায়েম হবে না। বাংলাদেশের কোনো কোন গোষ্ঠী এ দেশের আজাদির লড়াই দিল্লির কাছে বেচে দিতে পারবে না।
কেবল খাস পছন্দের কোনো সরকার এভাবে বিনাস ও বিতাড়নই নয়, ঢাকা এভাবে দিল্লির দিকে চোখ রাঙাবে-তা ভারতের কাছে এখনো ধারনাতীত। নেপাল, শ্রীলঙ্কা,বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলো একে একে এভাবে ডেমকেয়ার হয়ে ওঠা ভারতের জন্য চরম কষ্টের। তাই শোধ নেয়ার হেন চেষ্টা-অপচেষ্টা নেই, যা ভারত না করছে। কিছুদিন ধরে তারা ভর করেছে কিছু গণমাধ্যম, লেখক-কলামিস্ট, টক শো ব্যাক্তিবর্গসহ বিশিষ্টজনদের ওপর। বিভিন্ন মাধ্যমে বয়ান দেয়ানোর চেষ্টা চলছে, ‘আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না। দেশের বহু মানুষ শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা স্মরণ করছে, বিশ্বের প্রভাবশালী কিছু দেশও তাকে  চায়’ -ইত্যাদি। এছাড়া সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও ভারতে এসে শেখ হাসিনার বিষয়ে কিছু কাজ করে গেছেন, এমন কি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথাও বলে গেছেন-এমন ধরনের তথ্য পর্যন্ত ছড়ানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রতি বিদ্বেষ কমাতে নির্বাচন সামনে রেখে এই এজেন্ডা বেশ জোরদার। তারা বিভিন্ন জরিপও ছাড়ছে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে। বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষ যে ফের আওয়ামী লীগের দিকেই ঝুঁকছে সেটাই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা। ভোটের হিসাব মেলাতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এতে সামিল হয়েছে এতে।
এ রকম সময়েই ভারতে সফর করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিন। এটাকেও হাইপ তোলার সাবজেক্ট করে ছড়ানো হয়েছে, ভারত সফরকালে পুতিন গোপনে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এ তথ্যকে সত্য প্রমাণ করতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভিডিওটি আসলে ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার মস্কোতে শেখ হাসিনা ও ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের। গত ৪ ডিসেম্বর ভারত সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সকল প্রথা ও নিয়ম ভেঙে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানান  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  ঠিক একই রকম কাকতালীয়ভাবে বর্তমানে ভারতে বসবাস করছেন আর এক দেশ তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুতিনের ভারত সফরের সময় দিল্লির রাস্তায় বাংলাদেশ সরকার বিরোধী পোস্টার দেখা গেছে মর্মে সংবাদও ছড়ানো হয়েছে। শেখ হাসিনার পতন ও তার ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই ভারতীয় আয়োজনে স্যোশাল মিডিয়ার কিছু অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা। দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচ সব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করছে।
ভূ-রাজনীতিসহ বিশ্ব কূটনীতিতে শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ ক্রমেই বড় ফ্যাক্টর। যথারীতি  বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলের তাপ-উত্তাপ বাংলাদেশের গায়েও লাগছে। তা কেবল ভারত নয়, সেই সুদুরের মার্কিন, রাশিয়া বা নিকটবর্তী চীনেরও। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া একটি বৈঠকের দিকেও তাকাতে হয় বাংলাদেশকে। গত ৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত ভারত-মার্কিন যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর তিনদিনের বৈঠক হয়ে গেল। ওই উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী নিয়োগ, সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের মতো বিস্তৃত উদীয়মান হুমকি এবং চ্যালেঞ্জের পর্যালোচনা করেছে। দুই দেশ প্রশিক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় এবং অব্যাহত দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তথ্য ভাগাভাগি সহ চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত ও আমেরিকা কাউন্টার টেররিজম বা আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কার্যত একযোগে কাজ করার বিষয়ে আবারও সহমত হয়েছে। জাতিসংঘের তালিকায় থাকা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যেমন এবার অভিযান হবে, তেমনই আরও কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে সেই তালিকায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়েও কথা হয়েছে। বিশেষ করে নয়া দিল্লি এবং ওয়াশিংটন দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য একটি টেকসই এবং ব্যাপক পদ্ধতিতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে। ফলে এটা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভাবাচ্ছে। শীঘ্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভারতে আসছে উচ্চ পর্যায়ের এক মার্কিন প্রতিনিধি দল। তাঁরা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠক করবেন। তারপর ওই মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে। বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের মনোভাব বদলের কোনো তথ্য নেই। বরং ক্ষেভে-দুঃখে ভারত আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত বিতাড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল ভারত। বেশিদিন আর রাখতেও চাচ্ছে না। আবার তৃতীয় কোনো দেশে স্থায়ীভাবে অবস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি। শেখ হাসিনাকে নিয়ে অস্বস্তিকর এ অবস্থায় ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাহ্যত এমন কথা বললেও ভেতরের অবস্থা অন্য রকম। জয়শঙ্কর এও বলেছেন, শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন সেটি মূল বিষয়। তবে, তার সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লির কাছে সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয়ের অনুমতি চাইলেও দেশটিতে তাঁর অবস্থান দীর্ঘ হয়েছে। ভারতের নামকরা কূটনীতিকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তদবির করলেও ফল আসেনি। কূটনীতিতে বিশ্বজুড়ে ভারতের সুনাম থাকলেও শেখ হাসিনা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত পেরে ওঠেনি। তাকে সুরক্ষা দেওয়া ভারতের দুর্নামের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে শেখ হাসিনা থেকে আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পশ্চিমা দুনিয়া। ফলে পশ্চিমা কোনো দেশই  তাঁকে আশ্রয় দিতে চাচ্ছে না। তারওপর এরইমধ্যে আবার তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। এরমাঝেও ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই চাইছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়মিত করতে। এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকও হয়েছে। তবে দুই দেশের সম্পর্কে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনা। ঢাকা খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা বিবৃতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সহায়ক হবে না। প্রায়ই বাংলাদেশ নিয়ে নেতাকর্মীর সঙ্গে তার দিকনির্দেশনামূলক ও আক্রমানাত্মক কথোপকথন ফাঁসের ঘটনায় বিরক্ত বাংলাদেশ। তা বিশ্বের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলছে ভারতকে। আর তাই যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টায় বিফল হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-আইসিসির তেমন তোয়াক্কা করে না, রাশিয়ার আশপাশের এমন কয়েকটি দেশও ‘না’ করে দিয়েছে।
ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, তার মেয়ে টিউলিপ, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ তাদের গোটা পরিবারই বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত সবাই। ভারতকে তা একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তারপরও মাঝেমধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রূপান্তরকালিন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়। আবার পেছায়। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বৈঠকের পর নতুন কিছু কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাতিক্রম কিছু ঘটতে শোনা যায়নি। এদিকে, ঢাকায় পাকিস্তানের সামরিক জেনারেল বা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফরও ভারতকে খুব টেনশনে ফেলেছে। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার আগেই ভারত বিষয়ে কিছু সাহসী মন্তব্য করে তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব না করে ভারতকে তার সেভেন সিস্টার নিয়ে বেশি এটেনশন দেয়ার পরামর্শ দিয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর দেশীয় রাজনীতিতে ভারতবিরোধী বাতাবরণে নিজেকে একাত্ম করে নিয়েছেন। কয়েক দফায়ই ভারতের চোখে চোখ রেখে কড়া বার্তা দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ মেনে নিতে। একটি বিশেষ পরিস্থিতি বা উত্তেজনার মধ্যে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে এক জায়গায় এনে গোটা বিশ্বকেই একটা বার্তা দিয়েছেন তিনি। পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তার অবস্থান তিনি ভারতসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কেই জানিয়েছেন। বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আর নতজানু নীতি মেনে নেবে না, সম–অধিকার ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চায় বাংলাদেশ। অথচ ভারত তা নাকচ করে না। আবার নতুন বাংলাদেশ মেনেও নেয় না। তারা একদিকে বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়ার পয়গাম দেয়, আরেক দিকে কুৎসা রটায়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একের পর এক বাংলাদেশবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তা ক্রমাগত বেড়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী দাবি করে খবর প্রচারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার কিছুই করেনি। যদিও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকে এর আগে একাধিক খবরকে ভুয়া চিহ্নিত করা হয়। শুরু থেকেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ইসলামী উগ্রপন্থার উত্থান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে আসছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে বয়ান রটাচ্ছে অবিরাম। যত সময় যাচ্ছে, গুজব তত ছড়াচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম থেকে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমেও যাচ্ছে। এর পর আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যাচ্ছে, যা কিছিটা উদ্বেগেরও কারণ। এসব গুজব হলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ ছিল, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু কোনো পদ্ধতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের হাতে বিলিয়ন ডলার রয়েছে, তারা মিথ্যা এবং অপতথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর কয়েকটির এ বিষয়ক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। সব শেষে সেখানে যোগ হয়েছে শেখ হাসিনার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের কল্পকাহিনী। অথচ ভারতে এসে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন সেখানে কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন তা সকলেরই জানা। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে একটি দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী যিনি অন্য দেশের আশ্রয়ে রয়েছেন সেরকম একজন ব্যক্তির সাথে পৃথিবীর ক্ষমতাধর কোন প্রেসিডেন্ট  বৈঠক করবেন তা কল্পনাতীত। যত ভালোই সম্পর্ক থাকুক না কেন। অথচ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যে ধরণের ন্যারেটিভ আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা করছেন, তা থেকে মনে হয় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাটা নিশ্চিত।
যদিও এরইমধ্যে বুমেরাং হয়ে গেছে সব তারপরও তারা দমবে বা এধরনের কাজ আর করবে না-সেই নিশ্চয়তা নেই।
লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category