• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে গোলের নতুন রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক / ১ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফুটবলবিশ্ব এখন বুঁদ হয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য ও চোখধাঁধানো গোলবন্যায়। প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের পসরা সাজিয়ে জালে বল জড়ানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা স্ট্রাইকাররা। আর এই গোলবন্যার ওপর ভর করেই ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা হলো। চলতি আসরের গ্রুপ পর্বেই ফুটবলাররা এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা আগের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। মাত্র ৪৫টি ম্যাচ শেষ হতেই টুর্নামেন্টের গোলসংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১৩৭টিতে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো একটি একক আসরের গ্রুপ পর্বে এত বেশি গোল আর কখনো দেখেনি বিশ্ববাসী।

এই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্তটির সাক্ষী হয়ে রইল পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তানের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি। মাঠের লড়াইয়ে তখন টানটান উত্তেজনা। ঠিক তখনই ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়ান। রোনালদোর করা এই চোখধাঁধানো গোলটি মাঠে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ১৩৭তম গোল হিসেবে অফিশিয়াল রেকর্ডে নাম লেখায়। আর এই একটি জাদুকরী গোলের মাধ্যমেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হওয়া সর্বমোট ১৩৬ গোলের এক দশকের পুরোনো এবং দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডটি।

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপটি নানা কারণেই অনন্য এবং ঐতিহাসিক। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক মোট ৪৮টি দল বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। দল বাড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচের সংখ্যা বাড়লেও গোলের রেকর্ড ভাঙার জন্য বাড়তি ম্যাচের প্রয়োজন হয়নি। বরং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চেয়েও তিনটি ম্যাচ কম খেলেই ফুটবলাররা গোলের এই নতুন বিশ্বরেকর্ডটি নিজেদের করে নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, রক্ষণাত্মক কৌশলের চেয়ে দলগুলো এখন অল-আউট অ্যাটাকিং বা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই বেশি পছন্দ করছে।

গোলের এই অবিশ্বাস্য গতির শুরুটা হয়েছিল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই। এবারের আসরে দলগুলোর গোল করার ক্ষুধা এতটাই তীব্র ছিল যে, ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপের পর চলতি আসরেই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে প্রথম ১০০টি গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার অনন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ফুটবলারদের গোলমুখী আগ্রাসনের কারণে মাত্র ৩৩টি ম্যাচ শেষ হতেই টুর্নামেন্টটি ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে। গ্রুপ পর্বের এই চোখধাঁধানো গোলবন্যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ষাটের দশকের সেই আদি ও অকৃত্রিম আক্রমণাত্মক ফুটবলের কথা। গ্রুপ পর্বেই যদি গোলের এমন বন্যা বয়ে যায়, তবে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ফুটবলাররা গোল করার ক্ষেত্রে আর কত বড় রেকর্ড গড়বেন, তা নিয়ে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category