মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন শুধু যুদ্ধবিমান আর মিসাইলের দখলে নয়, সেখানে মিশে আছে লাখো প্রবাসী বাংলাদেশীর দীর্ঘশ্বাস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং পরবর্তীতে ১৬টি দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, কুয়েত ও লেবাননে থাকা বাংলাদেশীরা এক নজিরবিহীন ‘চতুর্মুখী সংকটে’ পড়েছেন। একদিকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরব, দুবাই ও বাহরাইনে এখন পর্যন্ত ৫ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত অর্ধশত। যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না; পরিবারের অনুমতি নিয়ে স্থানীয়ভাবেই দাফন করতে হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
বেতনহীন প্রবাসীরা: কুয়েতের প্রবাসীরা জানাচ্ছেন, কাজ করলেও কোম্পানিগুলো বেতন দিতে পারছে না।
আর্তনাদ: অনেক প্রবাসী এবার ঈদের কেনাকাটার জন্য দেশে টাকা পাঠাতে পারেননি। কুয়েতের এক মানি এক্সচেঞ্জ ম্যানেজার জানান, দেশে থাকা মেয়ের আবদার মেটাতে না পেরে এক বাবার বোবা কান্নার দৃশ্য আজ অনেক প্রবাসীরই বাস্তব চিত্র।
যুদ্ধের কারণে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কয়েক হাজার কর্মী এখন বেকার। আবার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বিমানের টিকিট কেটেও অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না। কুয়েত ও কাতার বিমান বন্দরে মিসাইল হামলার কারণে ফ্লাইট চলাচল এখনো অনিয়মিত।
লেবানন ও কাতার: লেবানন দূতাবাস প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কাতার দূতাবাস নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের সাথে যোগাযোগ করছে।
সরকারের অবস্থান: প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থের চেয়ে জীবনের মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কেবল প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় অশনিসংকেত। দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরণের ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।