অভ্যাসগুলো আপাতদৃষ্টিতে হয়তো ক্ষতিকর নয়। নুড়িপাথরের মতো ছোটো। কিন্তু এ পাথরগুলোই সমস্যা নামের কলসিতে জমতে জমতে সেখানে তলানিতে জমে থাকা বিপদ উপরে তুলে আনে। তখন আমাদের দিশেহারা অবস্থা হয়।
১ ) দামি ফোন বা গ্যাজেট কেনা। কয়দিন পরই এগুলোর নতুন এডিশন বাজারে আসে। তখন এত দাম দিয়ে কেনা ফোন বা গ্যাজেট আকর্ষণ হারায়। কিন্তু এগুলো কেনার আর্থিক ধাক্কা অনেকদিন থেকে যায়।
২) ঋণ করে ভ্রমণ করা। এটি সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু ঋণের বোঝা মাথা থেকে নামানো কঠিন হয়ে যায়।
৩) শিশুদের জন্য অতিরিক্ত দামে জামা-জুতো কেনা। কয়েক মাসের মধ্যেই বাচ্চা বড় হয়ে যায়, এগুলো আর ফিট হয় না। ( এক্ষেত্রে অবশ্য আবেগেরও মূল্য আছে। তাই দুয়েকটি কেনা যেতেই পারে- তবে খুব বেশি নয় )
৪) সঞ্চয় ভেঙে বা ঋণ নিয়ে কেবল তথাকথিত স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য গাড়ি কেনা। এতে সঞ্চয় যেমন ভাটায় পড়ে, আবার ঋণের ফাঁসও গলা চেপে ধরে। তাছাড়া, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও স্থায়ী যন্ত্রণার জন্ম দেয়।
৫) প্রত্যেক বিয়েশাদিতে নতুন কাপড় কেনা। এটি সঞ্চয় ধ্বংস করে। বরং অল্প পোশাক কেনা অনেক ভালো, যেটার আবেদন অনেকদিন থাকে।
৬) বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ঘনঘন পার্লারে যাওয়া। এটি আর্থিকভাবেও ক্ষতিকর, অনেক সময় ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর।
৭ ) অফারের খপ্পরে পড়ে কিছু কিনে ফেলা, যেটা পরে কাজে লাগে না। একই ক্ষতি হয় অন্যদের দেখে বেদরকারি কিছু কিনলে।
৮ ) ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অথবা মাসিক কিস্তিতে অনর্থক জিনিস কেনা। এগুলো হয়তো তেমন কাজে লাগে না, কদিন পর মোহ কেটে যায়। কিন্তু ক্রেডিট কার্ড বা মাসিক কিস্তির ভূত অনেক দিন ঘাড়ে চেপে থাকে।
৯ ) মাসের শুরুতেই খরচের বাজেট ঠিক না করা। এটি করলে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ হয়। মাসিক বাজেট মধ্যবিত্তের অন্যতম আর্থিক রক্ষাকবচ।
১০ ) নেটফ্লিক্স, ওটিটি, জিম এগুলো তেমন ব্যবহার না করেও সাবস্ক্রিপশন চালিয়ে যাওয়া।
মুখে আমরা যাই বলি না কেন, বিপদে টাকা অনেক বড় ভরসা। মধ্যবিত্তরা সমস্যায় পড়লে দিশেহারা হন সঞ্চয় না থাকায়। তাই অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে সঞ্চয় করা উচিত। যত ক্ষুদ্র সঞ্চয় হোক, দীর্ঘদিন জমালে এক সময় তা মোটামুটি বড়ই হয়। বিপদে কাজে লাগে।
আমাদের মায়েরা মুষ্টিচাল জমাতেন- সামান্য এক মুঠ চাল কত কাজে লাগত, তাই না?
আনন্দে সবাই পাশে থাকে- বিপদে থাকে না। তখন মুষ্টিচালই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।