যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত শীর্ষ নেতা মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির স্বজনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ফেডারেল পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড (স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি) বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন। তবে আমেরিকায় বসবাস করলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত মার্কিন বিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন।
তিনি ইরান সরকারকে সরাসরি সমর্থন এবং আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ বলে অভিহিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা এবং আইআরজিসি-র (যাকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে) প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
হামিদেহ ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি হামিদেহর স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপরও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানি দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না এবং সোলেমানির কোনো ভাতিজি নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহেই ইরানের সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির মেয়ে ও জামাতার অভিবাসন মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে:
“যারা আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসকের সমর্থক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাদের ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেবে না।”
২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন কাসেম সোলেমানি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানপন্থী ও বিতর্কিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে।