আগামীকাল রোববারের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বান করা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। বর্তমান বিএনপি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তারা জানিয়েছে, দাবি মানা না হলে সরকার জনগণের রোষানল থেকে ক্ষমা পাবে না।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
বৈঠক শেষে ১১ দলের প্রধান অভিযোগ ও দাবিগুলো:
রোববারের ডেডলাইন: আগামীকালের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে সরাসরি রাজপথে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনীহা: জোটের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের কার্যকলাপে এটি এখন সুস্পষ্ট যে, তারা ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে মোটেও আগ্রহী নয়।
সংসদকে কলুষিত করার অভিযোগ: জাতীয় সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এর মাধ্যমে বিএনপি সরকার পবিত্র সংসদকে কলুষিত করেছে।
নতুন করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর শঙ্কা: সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বদলে প্রশাসক বসিয়ে সরকার নতুন করে আরেকটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচন কারচুপির গভীর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ১১ দল।
বিগত নির্বাচন নিয়ে হতাশা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন আযাদ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জনগণ একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তাদের ভোটাধিকারের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন ওই নির্বাচনে ঘটেনি।”