শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানকে অতীতে নানাভাবে খাটো করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত শহীদ জিয়ার ‘একটি জাতির মুক্তি’ প্রবন্ধটির তৎকালীন কোনো মুক্তিযোদ্ধাই বিরোধিতা করেননি, যা প্রমাণ করে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীত ও অনবদ্য।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে এক চমৎকার রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ হয়। তাই ইতিহাসকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তবে এর অতিরিক্ত চর্চা যেন আমাদের আগামীর পথচলাকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যেকোনো আলোচনা বা গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনোভাবেই এই গৌরবময় ইতিহাসকে ছোট করা না হয়।
দেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্পদ সীমিত হলেও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে কাজ করলে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও দলীয় শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে সংহতি প্রকাশ করেন।