“শুধু আর্থিক ঘুষ নেওয়াই দুর্নীতি নয়, বরং নিজের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে সময়মতো অফিসে উপস্থিত না হওয়াটাও এক ধরনের বড় দুর্নীতি”—এমন কড়া মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
পরিদর্শনের মূল বিষয়বস্তু ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা:
অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: আকস্মিক এই পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পান। সরকারি দায়িত্ব পালনে এমন অবহেলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দালাল ও হয়রানিমুক্ত হাসপাতাল: সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবাটুকু পায় এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। হাসপাতালগুলোকে সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান।
অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহে দুর্নীতি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং ডাক্তার ও নার্সদের সময়মতো ডিউটিতে উপস্থিত না থাকার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো নিয়ে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এসব অনিয়মে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানসম্মত চিকিৎসাসেবা: দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন।