সাগরে ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এক ধাক্কায় দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, যা দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশ।
তিতাস গ্যাসের দেওয়া তথ্যমতে, টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে। বিশেষ করে গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণাংশসহ সমগ্র তিতাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পোৎপাদন—বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্প ও তৈরি পোশাক খাত চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই আকস্মিক সংকট বেশ উদ্বেগজনক। দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এক্সেলারেট এনার্জি ও সামিট) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশ। স্বাভাবিক সময়ে এই দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ যেখানে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডির কিছু বেশি, সেখানে একটি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক কারণে জ্বালানি আমদানি সংকোচনের এই সময়ে টার্মিনাল বন্ধের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি ঠিক কবে নাগাদ মেরামত শেষে পুনরায় গ্যাস সরবরাহে ফিরবে, সে বিষয়ে তিতাস গ্যাস বা জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি। তবে উদ্ভূত এই আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংকট মোকাবিলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অত্যন্ত সংযত ও সাশ্রয়ীভাবে গ্যাস ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।