• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
Headline
আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ: স্বাধীনতার আঁতুড়ঘরে এবার নেই কোনো সরকারি আয়োজন বিরিয়ানিতে মেশানো হচ্ছে ডায়ালাইসিসের কেমিক্যাল: রাজধানীতে অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য অনলাইনে কালোবাজারি: ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় মুজিবনগর দিবস আজ: সরকার বদলালেও সংস্কার হয়নি, ধ্বংসস্তূপেই পড়ে আছে স্বাধীনতার স্মারক ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের মেগাপরিকল্পনা সরকারের পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগের উদ্যোগ বিষাক্ত আবর্জনা ও দূষণে মৃত্যুর মুখে ঢাকার লেকগুলো: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী এআই কি কেড়ে নেবে শিল্পীর জায়গা? হলিউড-বলিউডের তারকারা যা বলছেন মাঠের জাদুকর এবার মালিকের চেয়ারে: স্প্যানিশ ক্লাব কিনে নিলেন লিওনেল মেসি

সুরসম্রাজ্ঞীর মহাপ্রস্থান: সংগীতের নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক / ১৫ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

ভারতীয় সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র, সুরের জাদুকরী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

শেষ মুহূর্তের লড়াই

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এই কিংবদন্তি। গত শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতেই তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। আজ দুপুরে তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে সংবাদমাধ্যমকে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গেশকর পরিবারের সেই ছোট্ট আশা

১৯৩৩ সালে ভারতের বিখ্যাত সংগীতানুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিশাল ছায়ার নিচে হারিয়ে না গিয়ে নিজের এক স্বতন্ত্র গায়কী ঢং তৈরি করেছিলেন তিনি। মাত্র ৯ বছর বয়সে গানের ভুবনে পা রাখা আশা ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করেন। ১৯৫০-এর দশকে তিনি বলিউডে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।

বৈচিত্র্যময় গায়কী ও স্বীকৃতি

শুরুর দিকে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও, ‘উমরাও জান’-এর গজল গেয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তাঁর কণ্ঠের বহুমুখিতা। দীর্ঘ আট দশকের ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বিশেষ করে ‘উমরাও জান’ ছবির ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘ইজাজত’ ছবির ‘মেরা কুছ সামান’ গান দুটি তাঁকে অমরত্ব এনে দেয়।

আধুনিক সংগীত নিয়ে ভাবনা

কণ্ঠের সজীবতা ও আধুনিক মনন দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছেও ছিলেন আইকন। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “শিখতে হলে ধ্রুপদী সংগীত বা ভিমসেন জোশীর গান শোনা উচিত। আমি আধুনিক গান খুব একটা না শুনলেও রাহাত ফতেহ আলী খান বা সুনিধি চৌহানের কাজ পছন্দ করি।”

বর্ণাঢ্য ও নাটকীয় ব্যক্তিগত জীবন

আশা ভোঁসলের জীবন ছিল সিনেমার গল্পের মতোই নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক সুখের হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ সালে বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা অবিচ্ছেদ্য ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তাঁর নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী।

শোকের ছায়া

আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পুরো দক্ষিণ এশিয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের রথী-মহারথীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভক্তরা বলছেন, সুরের ভুবনে লতা-আশার যে যুগলবন্দী কয়েক দশক বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিল, আজ তা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category