সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র সচল মাধ্যম ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরব যখন বিকল্প পথে তেল রপ্তানির জন্য এই পাইপলাইনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, ঠিক তখনই এ হামলা চালানো হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (৮ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সরিয়ে নিচ্ছিল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে।
এর মধ্যে ২০ লাখ ব্যারেল অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
বাকি ৫০ লাখ ব্যারেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনের পাশাপাশি সৌদি আরবের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, ২৩ মার্চ থেকে ইয়ানবু বন্দর থেকে দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হচ্ছিল, যা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার ফলে বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এমনিতেই তেলের দাম আকাশচুম্বী, তার ওপর এই বিকল্প পথটি বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অপূরণীয় ধস নামবে।
এই হামলার পর ওয়াশিংটন বা রিয়াদ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যে একে ‘চরম উসকানি’ হিসেবে দেখবে, তা নিশ্চিত। এই ঘটনার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বাস্তবে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।