• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
Headline
মাদক ও সাইবার অপরাধ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি আইজিপির কলেজছাত্র হত্যায় ৭ জনের ফাঁসি স্বস্তিতে শুরু মাধ্যমিকের লড়াই: প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী বাসের ভাড়ায় আসছে সমন্বয়, সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে ‘আঞ্চলিক’ নববর্ষের রূপরেখা ত্যাগের মূল্যায়নে স্বজন-ছায়া: নারী আসনে বিএনপির ৩৬ মুখ জোটের শরিকদের ছাড়, নারী আসনে জামায়াত-এনসিপির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত গম পাচার কেলেঙ্কারি: ভোটের মুখেই ইডির তলবে বিপাকে নুসরাত ব্যাট ছেড়ে মালিকানায় ‘ইউনিভার্স বস’: স্কটিশ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনলেন গেইল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—সরকারের সাশ্রয়ের বিপরীতে কতটা পুড়ছে সাধারণ মানুষ? চার দেওয়াল পেরিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার: নারী আসনের ভোটে সরগরম নির্বাচন ভবন

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ‘ট্রানজিট ফি’ ঘোষণা ইরান ও ওমানের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | তেহরান/মাস্কাট / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন এক নজিরবিহীন নীতি ঘোষণা করেছে ইরান ও ওমান। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই নৌপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে দিতে হবে নির্দিষ্ট হারে ‘ট্রানজিট ফি’। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কেন এই ‘ট্রানজিট ফি’?

ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় অবকাঠামো এবং নৌপথের সুরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এই অর্থ সংগ্রহ করতেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কর বা ফি আরোপ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এই ফি আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ইরান বলছে এই জরুরি পরিস্থিতিতে এটি তাদের অধিকার।

বিপুল অর্থের দাবি: জাহাজ প্রতি ২০ লাখ ডলার

শিপিং ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ সময়ের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে। ইরান প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি দাবি করছে। এই বিশাল অংকের টোল পরিশোধ করা অনেক শিপিং লাইনের জন্যই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত ও পাকিস্তানের বিশেষ সুবিধা

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সাথে সফল আলোচনা সম্পন্ন করেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আপাতত নিশ্চিত থাকলেও ইউরোপ বা জাপানের মতো দেশগুলো এখন দোটানায় রয়েছে। তারা কি এই উচ্চমূল্যের ফি দিয়ে পথটি ব্যবহার করবে, নাকি দীর্ঘ পথ ঘুরে অন্য রুটে যাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো এই ফি আদায়ের ঘোষণাকে “নৌ-দস্যুতা বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়” হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ইরান ও ওমান তাদের অবস্থানে অনড়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের পরিবহন খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) হস্তক্ষেপ কামনা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category