রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। এর আগে ভোরেও একবার দেশ কেঁপে উঠেছিল। অর্থাৎ, প্রায় ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ একই দিনে দুবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, আমেরিকান ভূত্বাত্তিক অধিদপ্তর ইউএসজিএসের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ভূমিকম্পটির মান ছিল ৫ দশমিক ৯ মাত্রার। ভূ-পৃষ্ট থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। এই ভূমিকম্পটি একই ফল্টের ওপরে সংঘটিত হয়েছে, যে ফল্টে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। ফল্টটি খুবই সক্রিয়। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
রাতের ভূমিকম্পের বিবরণ
রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫১৬ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের ইয়েনাংগুয়াং শহর থেকে ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২.৭ কিলোমিটার গভীরে।
তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভোরের ভূমিকম্প ও সময়ের ব্যবধান
এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়ায়।
ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৩৪ মিনিট—হিসাব করলে দেখা যায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা (১৬ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট) সময়ের ব্যবধানে দেশের মাটি দুবার কেঁপে উঠল। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন ঘন ঘন কম্পনে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।