• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

অস্কারের মঞ্চে হাভিয়ের বারদেমের দৃপ্ত আহ্বান: ‘যুদ্ধকে না বলুন, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন’

Reporter Name / ১৬০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত অস্কারের জমকালো আয়োজনে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার তুলে দিতে মঞ্চে উঠেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। পোডিয়ামে দাঁড়িয়েই তিনি জোরালো কণ্ঠে বলে ওঠেন, ‘যুদ্ধকে না বলুন এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন’। তাঁর এই সাহসী ও অপ্রত্যাশিত আহ্বানে উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের হস্তক্ষেপ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল জনরোষ চলছে, ঠিক তখনই অস্কারের মতো বিশ্বমঞ্চে বারদেমের এই বলিষ্ঠ অবস্থান সবার নজর কেড়েছে। এদিন তাঁর পরনে থাকা টাক্সিডোতে দুটি বিশেষ পিন শোভা পাচ্ছিল—যার একটিতে লেখা ছিল ‘যুদ্ধকে না বলুন’ এবং অপরটি ছিল ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের সুস্পষ্ট প্রতীক।

পূর্ববর্তী প্রতিবাদ ও দৃঢ় অবস্থান

ফিলিস্তিন ইস্যুতে হাভিয়ের বারদেমের এই প্রতিবাদ এবারই প্রথম নয়। এর আগে এবারের এমি অ্যাওয়ার্ডসের রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে ভ্যারাইটি ম্যাগাজিনের কাছেও এ বিষয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।

সেখানে তিনি বলেছিলেন:

“আমি আজ গাজায় চলমান গণহত্যার নিন্দা জানাতে এখানে দাঁড়িয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারস (আইএজিএস) পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই গণহত্যা থামাতে আমরা ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবরোধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাই। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করো।”

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও ছিলেন সরব

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গাজা ইস্যুতে আয়োজকদের ‘নীরবতার’ কড়া সমালোচনা করে ১০০ জনেরও বেশি তারকার সই করা এক খোলা চিঠিতেও যুক্ত ছিলেন বারদেম। ওই চিঠিতে বেশ কয়েকটি জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছিল:

  • অসহযোগিতার আহ্বান: শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই ভয়াবহ সহিংসতার কোনোভাবেই সহযোগী হবে না বলে চলচ্চিত্র কর্মীরা প্রত্যাশা করেন।

  • সেন্সরশিপের প্রতিবাদ: গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করা শিল্পীদের সেন্সর করার বিষয়ে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব এবং জার্মান রাষ্ট্রের নেতিবাচক অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করা হয়।

  • নজরদারির অভিযোগ: প্যালেস্টাইন ফিল্ম ইনস্টিটিউটের অভিযোগের সূত্র ধরে বলা হয়, এই উৎসব কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং তদন্তের ক্ষেত্রে ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category