সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে—আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দাবি করা হয়, জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি আল্টিমেটাম দিয়েছে যাতে আগামী দুই মাসের (৬০ দিন) মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক কাজী রুনার বরাতে এই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
ফ্যাক্টচেক সংস্থা রিউমার স্ক্যানার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (OHCHR) অফিসিয়াল নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে: ১. চিঠির প্রকৃত উদ্দেশ্য: জাতিসংঘ ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। সেখানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, গণগ্রেপ্তার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা ও তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। ২. নিষেধাজ্ঞা তোলার কোনো নির্দেশ নেই: চিঠির কোনো অংশেই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়নি। ৩. ৬০ দিনের আসল রহস্য: চিঠিতে উল্লেখ ছিল যে, এই চিঠির বিষয়বস্তু এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া যেকোনো উত্তর ৬০ দিন পর জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এই ‘৬০ দিন’ সময়সীমাটিকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ‘নিষেধাজ্ঞা তোলার আল্টিমেটাম’ হিসেবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ তাদের চিঠিতে মূলত মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে:
একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার ফলে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে কোনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে কি না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ফেয়ার ট্রায়াল’ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে কি না।
ঢালাও গ্রেপ্তার বা ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর মতো পদক্ষেপগুলো নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (ICCPR) সাথে সাংঘর্ষিক কি না।
অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে কোনো আল্টিমেটাম বা নিষেধাজ্ঞা তোলার আদেশ দেয়নি। বরং তারা মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “৬০ দিনের আল্টিমেটাম” সংক্রান্ত তথ্যটি একটি অপপ্রচার বা ফেক নিউজ।