• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
Headline
মাদক ও সাইবার অপরাধ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি আইজিপির কলেজছাত্র হত্যায় ৭ জনের ফাঁসি স্বস্তিতে শুরু মাধ্যমিকের লড়াই: প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী বাসের ভাড়ায় আসছে সমন্বয়, সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে ‘আঞ্চলিক’ নববর্ষের রূপরেখা ত্যাগের মূল্যায়নে স্বজন-ছায়া: নারী আসনে বিএনপির ৩৬ মুখ জোটের শরিকদের ছাড়, নারী আসনে জামায়াত-এনসিপির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত গম পাচার কেলেঙ্কারি: ভোটের মুখেই ইডির তলবে বিপাকে নুসরাত ব্যাট ছেড়ে মালিকানায় ‘ইউনিভার্স বস’: স্কটিশ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনলেন গেইল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—সরকারের সাশ্রয়ের বিপরীতে কতটা পুড়ছে সাধারণ মানুষ? চার দেওয়াল পেরিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার: নারী আসনের ভোটে সরগরম নির্বাচন ভবন

‘আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি, কিছুই বাকি থাকবে না’: ট্রাম্প

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এখনই শেষ করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকলেও, দেশটিকে পুরোপুরি ‘নিশ্চিহ্ন’ করেই কেবল ঘরে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বর্তমানে ইরান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

‘১৫ বছর লাগবে পুনর্গঠন করতে’

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কাছে অনেক বিকল্প রয়েছে। আমরা চাইলে এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমরা যা করেছি তা পুনর্গঠন করতে ইরানের অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। তবে আমি এটি শেষ করতে চাই।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

তেল সম্পদ দখলের ইঙ্গিত

ইরানের বিশাল তেল খনিগুলো নিয়ে নিজের গোপন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের তেল এখন দখল করার মতোই অবস্থায় আছে। তাদের কিছুই করার নেই। আমেরিকার মানুষ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি, কিন্তু এটা আমার ওপর নির্ভর করলে আমি সব তেল নিজের কবজায় নিয়ে নিতাম এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করতাম।”

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও ট্রাম্প সরাসরি সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এটি করতে চাই না, কিন্তু আমরা দেশটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে না, কিছুই থাকবে না। এমনকি এর চেয়েও খারাপ কিছু ঘটার অপেক্ষায় আছে।”

বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহের স্বীকারোক্তি

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের কথা আবারও স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানি বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘প্রচুর অস্ত্র’ পৌঁছে দিয়েছিল যাতে তারা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই করতে পারে। তবে সেই অস্ত্রগুলো বর্তমানে কোন গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।


প্রতিবেদনের মূল সারসংক্ষেপ:

  • কঠোর অবস্থান: ইরানকে পুরোপুরি পঙ্গু না করে ফিরবে না মার্কিন বাহিনী।

  • পরিকাঠামো ধ্বংস: বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ সব নাগরিক সুবিধা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি।

  • তেলের নিয়ন্ত্রণ: ইরানের তেল সম্পদকে যুক্তরাষ্ট্রের আয়ের উৎস বানানোর ইচ্ছা।

  • স্বীকারোক্তি: ইরানি বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং মধ্যপ্রাচ্য এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার আল্টিমেটাম পার হওয়ার আগে ইরান কোনো চুক্তিতে আসবে নাকি ট্রাম্পের ‘ধ্বংসাত্মক’ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।


সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category