ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন বোমা ফাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, যে দেশই ইরানকে সামরিক অস্ত্র বা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সকল পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “যে দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, তাদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” যদিও তিনি কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে এটি যে বেইজিং ও মস্কোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে দেখা হচ্ছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথ বন্ধ করার একটি ‘আর্থিক অস্ত্র’ হিসেবে। বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা বা রুশ পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বেইজিং এবং মস্কো বরাবরই ইরানের সাথে তাদের অস্ত্র লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্পের এই হুমকির পর এখনও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্প যদি এই শুল্ক কার্যকর করেন, তবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর করারোপ করতে পারে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ট্রেড ওয়ার’ বা বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে।