গ্রেট শো অন আর্থ—ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। আর বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে পুরো বাংলাদেশের মতো রাজধানী ঢাকাতেও ফুটবল উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে এবং নিজেদের পছন্দের তারকাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ফুটবলপ্রেমীরা ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। চার বছর পর পর ফিরে আসা এই চিরচেনা ফুটবল জ্বর আমজনতার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের প্রতিটি ফুটপাতে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট ও এর আশপাশের পুরো এলাকা এখন দেশ-বিদেশের রঙবেরঙের পতাকায় ছেয়ে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পতাকা ও ফুটবল সামগ্রী কেনাবেচার ধুম।
গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও হকার্স মার্কেটের আশেপাশের ফুটপাতগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হকার ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাঁশের লাঠিতে বিভিন্ন সাইজের পতাকা ঝুলিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। প্রতিবারের মতো এবারও বিক্রির শীর্ষে রয়েছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে তরুণ প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের তালিকায় এবার ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোও বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা মূলত নিচের দেশগুলোর পতাকা সবচেয়ে বেশি কিনছেন:
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল: চিরচেনা আকাশী-সাদা এবং হলুদ-সবুজ পতাকার চাহিদা আকাশচুম্বী। ছোট টেবিল ফ্ল্যাগ থেকে শুরু করে ছাদ বা বারান্দায় ওড়ানোর জন্য ১০ থেকে ১৫ হাত বড় পতাকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
জার্মানি ও ফ্রান্স: ট্যাকটিক্যাল ফুটবল ও গত কয়েক আসরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে দল দুটির সমর্থকেরা কালো-লাল-সোনালী এবং নীল-সাদা-লাল পতাকা লুফে নিচ্ছেন।
স্পেন ও পর্তুগাল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অন্ধ ভক্ত এবং তিকিতাকা ফুটবলের অনুসারীরা পর্তুগাল ও স্পেনের লাল-সবুজ ও লাল-হলুদ পতাকার খোঁজ করছেন দেদারসে।
গুলিস্তানের পতাকা বাজার:
চাহিদার শীর্ষে: ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ──> উদীয়মান ক্রেতা: ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল ও স্পেন
ফুটবল বিশ্বকাপের এই জোয়ারে গুলিস্তানের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মুখে এখন চওড়া হাসি। শুধু নিয়মিত খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রেতারাই নন, অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ীও অন্য ব্যবসা বাদ দিয়ে এখন কেবল পতাকা ও জার্সি বিক্রিতে নেমে পড়েছেন। আকার ও কাপড়ের গুণগত মান ভেদে প্রতিটি সাধারণ সাইজের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যে। আর বহুতল ভবন বা বাড়ির ছাদে ওড়ানোর জন্য তৈরি বিশালাকার মেগা পতাকাগুলোর দাম ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে গুলিস্তানে পতাকা কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী রাফসান আহমেদ জানান, “আমাদের পুরো এলাকায় ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ নিয়ে বাজি ধরা শুরু হয়ে গেছে। বাড়ির ছাদে ওড়ানোর জন্য এবার আর্জেন্টিনার ১৫ হাতের একটা বড় পতাকা নিলাম।” অন্যদিকে গুলিস্তানের পুরনো ফুটপাত ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়া বলেন, “করোনা বা অন্যান্য মন্দার পর এই বিশ্বকাপ আমাদের ব্যবসার জন্য বড় একটা আশীর্বাদ হয়ে আইছে। প্রতিদিন কয়েকশ পতাকা বিক্রি হচ্ছে। খেলা যত ঘনিয়ে আসবে, বিশেষ করে দলগুলোর প্রথম ম্যাচ শুরু হলে বিক্রি আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছি।” পতাকার পাশাপাশি প্রিয় দলের লোগো সংবলিত জার্সি, রিস্টব্যান্ড এবং গলার স্কার্ফও ফুটবলপ্রেমীদের হাত ধরে দেদারসে ঘরে ফিরছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মাঠের খেলা যেখানেই হোক না কেন, উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।