• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা তাহসিনের সাক্ষাৎ শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত ‘চোখ-কান খুলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি’— ইসিকে জামায়াত বৈদেশিক লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক শাপলা চত্বর মামলায় গ্রেপ্তার না হলে আত্মসমর্পণ করবো: লতিফ সিদ্দিকী ‘নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়’ হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে কী আছে সাশ্রয়ী কিন্তু প্রাণঘাতী: তুর্কি ড্রোনে বদলাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সমীকরণ বাংলাদেশের গ্যাস গেলো কোথায়?

ঐক্য হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এনসিপি

Reporter Name / ১ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে ছাত্র-তরুণদের উত্থান ঘটেছিল, সময়ের ব্যবধানে সেই ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (এনসিপি) আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। মাত্র দুই মাস আগে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের রেশ না কাটতেই হবিগঞ্জে তার ওপর ছাত্রদলের পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, ক্ষমতার ভারসাম্য এখন আর তাদের পক্ষে নেই। দলের অভ্যন্তরে ভাঙন, জুলাইয়ের মাস্টারমাইন্ডদের প্রস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এনসিপি এখন এক ক্ষয়িষ্ণু দলে পরিণত হয়েছে। আসিফ মাহমুদ বা সার্জিস আলমদের নিরাপত্তা নিয়ে যে সংকট দেখা দিচ্ছে, তা মূলত তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও জনবিচ্ছিন্নতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই পতনের মূলে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ। প্রথমত, জামায়াতে ইসলামীর সাথে ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার ফলে দলের ভেতরে চরম আদর্শিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলের শীর্ষ নারী নেত্রীরাসহ বড় একটি অংশ পদত্যাগ করেছেন। দ্বিতীয়ত, জুলাই বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম এনসিপির পথে না হেঁটে ‘অল্টারনেটিভস’ নামে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। তৃতীয়ত, এনসিপির সাথে থাকা বামপন্থী ও প্রগতিশীল কর্মীরা ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) নামে পৃথক সংগঠন গঠন করেছেন। ফলে ২৪ সালের সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তি আজ দশ-বারো টুকরোয় বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

এনসিপির বর্তমান সংকটের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো তাদের ক্ষমতার দম্ভ ও নীতিগত ভণ্ডামি। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছায়ায় থাকাকালীন ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মাধ্যমে প্রায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তখন এসব ঘটনাকে ‘বিপ্লবী বিচার’ বলে জায়েজ করার চেষ্টা করেছিলেন এনসিপি নেতারা। এখন সেই একই ফর্মুলা বা মব কালচার তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। গাজীপুর, বেনাপোল, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, ঝিনাইদহ এবং সর্বশেষ হবিগঞ্জে তাদের ওপর যে হামলাগুলো হয়েছে, তা মূলত ওই সময়ে গড়ে তোলা ‘সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি’রই ফল। যে আইন তারা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন, আজ সেই আইনের অভাবই তাদের প্রধান ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা হ্রাসের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনা প্রভাব ফেলেছে। হবিগঞ্জের উদাহরণ টানলে দেখা যায়, সেখানকার ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পুলিশকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া, থানায় আগুন দেওয়ার উস্কানিমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। এর পাশাপাশি জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা তাহেরী হুজুরের অনুসারী এবং সাবেক সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার বলয়ের সাথে এনসিপির সরাসরি বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে, জুলাইয়ের আগে সাধারণ জীবনযাপন করা নেতারা এখন যে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, সেই দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি ছিল জুলাই আন্দোলনের ফসল, কিন্তু তারা নিজেদেরই সেই আন্দোলনের অভিভাবক ভেবে ভুল করেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে তাদের সমর্থন দিয়েছিল, এনসিপি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তারা নিজেদের ছোট ছোট স্বার্থ ও গোষ্ঠীগত রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। হবিগঞ্জ বা ঝিনাইদহের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো হামলা নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি এখন আর নেই। নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দখলদারিত্বের যে লড়াই শুরু হয়েছে, সেখানে এনসিপি এখন আর কোনো বড় ফ্যাক্টর নয়।

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এই যে, যারা একদিন মব জাস্টিসকে সমর্থন করেছিলেন, তারাই এখন বিচার চাইছেন। অথচ যে জনরোষ বা মব কালচার তারা তৈরি করেছিলেন, তার নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের হাতে নেই। এনসিপি নেতারা আজও জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো—সেই জুলাইয়ের মানুষ আর এনসিপির পাশে নেই। তারা আজ নিজেদের গড়া রাজনৈতিক খেলার দাবার বোর্ডে নিজেরাই কোণঠাসা। এনসিপি এখন আর গণমানুষের দল নয়, বরং এটি একটি ছোট ও বিতর্কিত সংগঠনে পরিণত হয়েছে, যা ক্রমাগত তার অতীত জনপ্রিয়তা ও নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category