রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নারীঘটিত বিরোধ ও মাদক ব্যবসার গভীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ। নিহতের স্বজন ও বন্ধুদের অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর, ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে আটক শিহাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল রাকিবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত পাঁচটি গভীর কোপ দেয় এবং পরে পিঠ ও পেটে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। বীভৎস এই হামলা শেষে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় পথচারীরা ধাওয়া করে শিহাব উদ্দিন নামের এক বাসচালককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিহাব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, এক তরুণীর কাছ থেকে নির্দেশনামূলক ফোন পেয়ে তিনি খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাতের এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রাকিবের বন্ধু ও স্বজনরা ‘জান্নাত মুন’ নামের আরেক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। বন্ধুদের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্বের জেরে তাঁর সাবেক স্বামী সাজিদের সঙ্গে রাকিবের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল এবং সাজিদ এর আগে প্রকাশ্যে রাকিবকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, নিহত রাকিবের প্রথম স্ত্রী হাবিবা আক্তারের জোরালো অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক চোরাচালানের যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জান্নাত মুনের ঠিকানায় প্রায়শই সন্দেহজনক পার্সেল আসত যেগুলোতে মাদক থাকার আশঙ্কায় রাকিব সেগুলো সংগ্রহ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এই অস্বীকৃতির জেরে তাদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একটি ভুয়া পার্সেল সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়ে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, শহীদ মিনারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এমন নৃশংস ঘটনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নারী ও মাদকের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে শাহবাগ থানার একাধিক আভিযানিক দল। পাশাপাশি, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অভিযোগের তীর থাকা জান্নাত মুন ও সাজিদ বর্তমানে তাদের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। ডিবির কর্মকর্তাদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং সেই চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা স্বার্থের সংঘাত থেকেই স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইউটিউবার রাকিবকে জীবন দিতে হয়েছে।