• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
ভোটের সমীকরণে ১১ দলীয় ঐক্যে টানাপোড়েন জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ কাগজে এতিম বাস্তবে শূন্য: ভুতুড়ে তালিকায় কোটি টাকার হরিলুট আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী বাংলাদেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি : রুহুল কবির রিজভী দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ : আইজিপি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব: নতুন দিগন্তের হাতছানি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতির আশা টোকিওর নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের আগামী অধিবেশনে উঠছে না সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব

কাগজে এতিম বাস্তবে শূন্য: ভুতুড়ে তালিকায় কোটি টাকার হরিলুট

Reporter Name / ১ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

অসহায়, পিতৃহীন ও দুস্থ শিশুদের পুনর্বাসন এবং ভরপোষণ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকার মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও নিষ্পাপ এই শিশুদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়াই ছিল এসব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। কিন্তু চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং জবাবদিহিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এই মহৎ উদ্যোগকে রূপ দেওয়া হয়েছে অর্থ আত্মসাতের এক নগ্ন ও ঘৃণ্য উৎসবে। উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার বেসরকারি এতিমখানাগুলোর দিকে তাকালে সমাজসেবা কার্যক্রমের আড়ালে গড়ে ওঠা ভয়াবহ জালিয়াতির এক অবিশ্বাস্য চিত্র চোখে পড়ে। সরকারি খাতাপত্রে শত শত এতিম শিশুর দীর্ঘ তালিকা দেখিয়ে বছর বছর সমাজসেবা অধিদপ্তরের লাখ লাখ টাকা লোপাট করা হচ্ছে, অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ কক্ষই খাঁ খাঁ করছে শূন্যতায়। কাগুজে এতিমদের অস্তিত্ব দিয়ে ভুতুড়ে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে বছরের পর বছর ধরে একটি অসাধু চক্র রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে চলেছে।

সরকারি নথি এবং সমাজসেবা দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পটুয়াখালী জেলাজুড়ে মোট উনষাটটি এতিমখানায় এক হাজার চারশো সাতজন দুস্থ শিশুর নামে প্রতি বছর সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি সরকারি অনুদান বিতরণ করা হয়। প্রতিটি এতিম শিশুর মৌলিক চাহিদা, পুষ্টিকর খাবার ও সুরক্ষার জন্য এই বিপুল অর্থ সরকারি তহবিল থেকে নিয়মিত ছাড় করা হলেও বাস্তবে এর সামান্য অংশও শিশুদের কাছে পৌঁছায় না। সম্প্রতি একটি সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, জেলার সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেই নথিপত্রে উল্লিখিত সংখ্যার অর্ধেক শিশুও উপস্থিত নেই। কোথাও কোথাও কোনো শিশুর অস্তিত্বই মেলেনি, অথচ ব্যাংকের খাতা থেকে নিয়মিত উত্তোলিত হচ্ছে বরাদ্দের পুরো অর্থ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট কেবল সরকারি অর্থই আত্মসাৎ করছে না, বরং অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর চড়াও হতেও দ্বিধাবোধ করছে না।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর চারাবনিয়া ফারুকিয়া হাফিজিয়া শিশু সদনের চিত্রটি এই মহাজালিয়াতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নথিপত্র অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানে বিশজন এতিম শিশুর খাওয়া-পড়া বাবদ বছরে চার লাখ আশি হাজার টাকা নিয়মিত বরাদ্দ তোলা হচ্ছে। অথচ সরেজমিনে ওই এতিমখানায় প্রবেশ করে দেখা যায়, সেখানে সব মিলিয়ে উপস্থিত রয়েছে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির অতীত ইতিহাস আরও চমকপ্রদ; এর আগের অর্থবছরে এখানে সাতান্ন জন এবং তারও পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পঁচাশি জন এতিমের নামে বিপুল অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছিল। হঠাৎ করে এত বিশালসংখ্যক শিশু কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মহসিনউদ্দিন। উল্টো তথ্য সংগ্রহের সরকারি বিধিমালার দোহাই দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের দিকে চড়াও হন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করানো হয় এবং অনুসন্ধানী দলকে ‘তথ্য সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানারকম হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী নেই, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও তদারককারী অফিসের লোকজনকে নিয়মিত নির্দিষ্ট ভাগ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বরাদ্দ নবায়ন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একই ধরনের কারসাজির পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে আমখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহেরচর শিশু সদন ও এতিমখানায়। সেখানে ছত্রিশ জন এতিম শিশুর নামে বার্ষিক আট লাখ চৌষট্টি হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে দেখা মিলেছে মাত্র পনেরো থেকে ষোলো জন শিক্ষার্থীর। যেখানে সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি শিশুর জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, সেখানে ভরদুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এতিম শিশুদের পাতে দেওয়া হয়েছে কেবল সাদা ভাত আর পাতলা আলু ভাজি। মাংস কিংবা পুষ্টিকর কোনো খাদ্যের চিহ্ন সেখানে ছিল না। এ বিষয়ে উপস্থিত দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এক হাস্যকর ও অযৌক্তিক দাবি করেন যে, শিশুরা নাকি স্বেচ্ছায় মুরগির মাংস খেতে চায় না। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের মৃত্যুর পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা দ্রুত সংকুচিত হয়ে গেছে বলে জানা গেলেও বরাদ্দের টাকা উত্তোলনে কোনো ভাটা পড়েনি।

গলাচিপা উপজেলার উত্তর-পূর্ব গজালিয়া সিদ্দিকিয়া বাদ সিদ্দিকিয়া শিশু সদন এতিমখানার অবস্থা আরও অবাস্তব ও বিস্ময়কর। নথিপত্রের হিসাব বলছে, এখানে বাইশ জন শিশুর ভরপোষণের জন্য বছরে পাঁচ লাখ আটাশ হাজার টাকা সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করার পর দেখা যায়, সেখানে একজনও এতিম শিশু উপস্থিত নেই। পুরো প্রাঙ্গণটি কার্যত নিস্তব্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যে কক্ষটিকে আবাসিক এতিমদের থাকার জায়গা হিসেবে দাবি করা হয়েছে, সেখানে ছিল জরাজীর্ণ মাত্র তিনটি বিছানা। সেখানে কোনো কার্যক্রম না থাকার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দাবি করেন, তাদের প্রধান পরিচালকের মেয়ের মৃত্যুর স্মরণে আয়োজিত এক খাবারের অনুষ্ঠানে সব শিশু দাওয়াত খেতে গেছে। কিন্তু অনুসন্ধানে ওই তথাকথিত ভোজের স্থলেও কোনো এতিম শিশুর দেখা মেলেনি। পরবর্তীকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে প্রতিষ্ঠানটি মূলত তার আপন ভাইয়ের। বিষয়টি যাতে গণমাধ্যমে প্রচারিত না হয় সেজন্য তিনি সংবাদকর্মীদের সরাসরি অনুরোধ জানান এবং তদন্ত ধামাচাপা দিতে কৌশলে যাতায়াত খরচের নামে উৎকোচ প্রদানের ব্যর্থ অপচেষ্টা চালান।

জালিয়াতির এই সীমাহীন দৌরাত্ম্যের মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যপট উন্মোচিত হয় গলাচিপার চিকনিকান্দি আওসাফিয়া হাফিজিয়া শিশু সদন এতিমখানায়। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী বিশ জন শিশুর বিপরীতে চার লাখ আশি হাজার টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের গোপন কথোপকথনে জানা যায়, সেখানে নিয়মিত অবস্থান করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র আট থেকে দশজন। এর চেয়েও ভয়াবহ দিক হলো, এই শিশুদের বেশিরভাগেরই বাবা-মা বেঁচে আছেন এবং তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে সেখানে দুবেলা খাবার খাচ্ছেন। অর্থাৎ চরম দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে জীবিত অভিভাবক থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সরকারি খাতায় এতিম বানিয়ে তাদের নামে অর্থ লোপাট করছে কর্তৃপক্ষ। প্রকৃত এতিম না হওয়া সত্ত্বেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে এই অন্যায়ের শিকার হতে হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমাজকল্যাণের মৌলিক ধারণাকেই নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানেও সতেরো জনের বিপরীতে নয়জনকে দেখিয়ে বাকিরা দাওয়াতে গেছে বলে দাবি করে ক্যামেরার সামনে মুখ লুকান পরিচালকরা। এমনকি আরেকটি ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচজন শিশুর নামে এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা তোলার পর এতিমখানার অস্তিত্ব অস্বীকার করে পরিচালকের পরিবার একে শুধু মাদ্রাসা দাবি করে সংবাদকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এতিমের অধিকার হরণকে অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পটুয়াখালী জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদের এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামের বিধান অনুসারে প্রকৃত এতিমদের হক যারা অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে কিংবা মিথ্যা এতিম সাজিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ ভোগ করে, তারা মূলত পরকালে কঠিন জাহান্নামের শাস্তি নিজেদের ওপর ডেকে আনছে। ধর্মের পবিত্র লেবাস পরে কিংবা মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে এতিমের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং তারা সমাজের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হওয়া উচিত।

অথচ যেখানে এমন প্রকাশ্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে স্থানীয় সমাজসেবা প্রশাসন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও গলাচিপা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইয়ুম অজুহাত দিয়েছেন যে, বর্ষা মৌসুম ও বৃষ্টির কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারেননি। কেবল কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরাদ্দের কিস্তি কিছুটা কমানোর প্রস্তাব দিয়েই তিনি দায় সারার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য যোগদানকারী নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো তথ্যই জানেন না বলে দাবি করেন। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে এসে কোনো ব্যাখ্যা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

একের পর এক ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে, মাঠপর্যায়ের কার্যকর তদারকির তীব্র অভাব এবং অসাধু কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদ ছাড়া এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বছরের পর বছর টিকে থাকা সম্ভব নয়। এতিমদের খাদ্য ও বাসস্থানের এই পবিত্র খাতকে যারা লুটপাটের চারণভূমিতে পরিণত করেছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। শুধুমাত্র কাগুজে অডিট বা নামমাত্র পরিদর্শনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি এতিমখানার প্রতিটি শিশুর বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ও সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের অভিভাবকত্ব যাচাই করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে যে সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করে কিংবা কমিশন বাণিজ্যের স্বার্থে এই ভুতুড়ে তালিকাগুলো অনুমোদন দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে এতিমের হকের টাকায় ভাগ বসানোর দুঃসাহস ভবিষ্যতে আর কেউ না দেখাতে পারে।

তথ্যসূত্র: ডিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category