• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
Headline
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিত আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজের আইনি বাধা দূর হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ৪৫তম বিসিএসে ১,৭০২ জনের নিয়োগ, গেজেট প্রকাশ রাজশাহীর উন্নয়নে ছয়টি ট্রেন লাইন ও চার লেনের সড়ক হচ্ছে : ভূমিমন্ত্রী সরকারি খরচায় ৬৪ জেলায় আইনগত সহায়তা পেয়েছেন ১৩,৮৩,৬১৭ জন এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক ও নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিতের তাগিদ চিফ হুইপের ১৯২ নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনায় ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে নিহত ৫০ বাংলাদেশি

Reporter Name / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

রাশিয়ায় গিয়ে মোটা বেতনে ভালো কোনো বেসামরিক চাকরি করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন—এমনই এক রঙিন স্বপ্ন বুকে নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ| কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালে যে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি তারা| আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে এই নিরীহ ও সরলমনা যুবকরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন| রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরই তাদের বেসামরিক কাজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের একেবারে সামনের সারিতে বা ফ্রন্টলাইনে| সেখানে গিয়ে কেউ কেউ নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, আর অগণিত পরিবার দেশে বসে মাসের পর মাস ধরে তাদের প্রিয়জনের কোনো খবর না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে| তারা জানেন না তাদের আদরের সন্তান বা স্বামী জীবিত আছেন নাকি ওই বরফ ঢাকা যুদ্ধক্ষেত্রেই চিরতরে হারিয়ে গেছেন|

সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গভীর অনুসন্ধানে এই মানব পাচার ও প্রতারণার ভয়ংকর এক চিত্র উঠে এসেছে| পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে এমন ৩০ জন বাংলাদেশির সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের রাশিয়ায় সাধারণ কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে নামানো হয়েছিল| অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই ৩০ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি তরুণ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে| এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে যখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি ড্রোন হামলায় একসঙ্গে ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন| এই ৩০ জনের দল থেকে মাত্র দুজন কোনোমতে নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন, যদিও তারা শারীরিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত| এছাড়া আরও দুজন বর্তমানে রাশিয়ার কোনো এক হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি ছয়জন এখনো ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করে যাচ্ছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে|

এই মানব পাচারকারী চক্রের ভয়ংকর ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের পুরো বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীর মাধ্যমে, যার নাম রাজন হোসেন| রাজনকে মূলত রাশিয়ায় একটি নির্মাণ শ্রমিক বা কনস্ট্রাকশন কাজের লোভ দেখিয়ে পাচার করা হয়েছিল| কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় এবং তাকে সরাসরি ইউক্রেন রণাঙ্গনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়| রাজন পরবর্তীতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে| পুলিশের অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে যে, গত চার বছরে রাশিয়ান বাহিনীর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জনের বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন| তবে নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে| তাদের মতে, এই সংখ্যা অনায়াসেই ৫০ থেকে ১০০ জনের ঘরে গিয়ে পৌঁছতে পারে, যদিও এর কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত কোনো সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি|

মৃত্যুকূপ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা তরুণ রাজন হোসেন জানান, তিনি রাশিয়ায় একটি ভালো কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ পাওয়ার আশায় দালালদের হাতে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন| গত ৭ মে তিনি রাশিয়ায় পৌঁছান| কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই দালালদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়| তাকে কোনো কাজের সাইটে না নিয়ে টানা ২১ দিন ধরে অত্যন্ত কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং এরপর আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকেও জোর করে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়| যুদ্ধের এক পর্যায়ে একটি ভয়ংকর ড্রোন হামলায় রাজন মারাত্মকভাবে আহত হন| তার কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন| টানা চার দিন পর তিনি একটি হাসপাতালে পৌঁছতে সক্ষম হন এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন| পরে সুযোগ বুঝে তিনি সেই আহত অবস্থাতেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গত ২৩ আগস্ট তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন| রাজন এক রোমহর্ষক তথ্য দিয়ে জানান যে, রাশিয়ান বাহিনী মূলত এই অসহায় বাংলাদেশিদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করত| তাদের ইচ্ছা করে সামনে ঠেলে দেওয়া হতো, যাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ওপর হামলা করে এবং সেই সুযোগে রাশিয়ানরা শত্রুদের সঠিক অবস্থান বা পজিশন চিহ্নিত করতে পারে|

এই মানব পাচার মামলার বিষয়ে এসআরবি-১০ এর কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ওই ৩০ জন তরুণ প্রথমে সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়া বা লিগ্যাল চ্যানেলেই রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন| কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়| রাজনের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে এই আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের দুই অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমান এবং মো. আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে| আসাদুজ্জামান আরও জানান, এই ৩০ জনের মধ্যে ২১ জনকেই ‘মিজান জাবালে-নূর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রিক্রুট করে পাঠানো হয়েছিল| তদন্তে আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান এবং আলী নামের দুজন ব্যক্তি এবং ‘হারেছ ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘টিএস গ্রুপ’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে| এছাড়া রাশিয়ায় অবস্থানরত আরও দুই ব্যক্তির এই পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে|

পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, চক্রের মূল হোতা মিজান পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে ওই যুবকদের ফ্লাইটে তুলে দেওয়া পর্যন্ত সব কাজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছিল| কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে যখন ওই যুবকরা বুঝতে পারেন যে তাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়েছে, তখন তারা মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান| তারা মিজানকে আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, “আপনি আমাদের এ কোথায় পাঠালেন? আমাদের বাঁচান, আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিন|” কিন্তু মিজান তাদের কোনো কথায় কর্ণপাত করেনি| উল্টো রাজনের পরিবার যখন মিজানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে যায়, তখন মিজান তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও চেষ্টা করে, যার প্রেক্ষিতে রাজনের বাবা বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন| তবে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, তিনি শুধু রাজনের বিষয়টিই জানেন, অন্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই|

এদিকে যেসব পরিবার তাদের প্রিয় সন্তানদের রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল, তাদের এখন দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তা আর কান্নায়| পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, বেশ কয়েকটি পরিবার ইতিমধ্যে খবর পেয়েছে যে তাদের সন্তানরা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, কিন্তু তারা আজও তাদের মরদেহ ফেরত পাননি বা শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখতে পারেননি| অনেক দালালের ফোন নম্বর এখন বন্ধ এবং তারা পরিবারগুলোর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে| মাদারীপুরের সুরুজ কাজী, কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কুমিল্লার ইউসুফ খানের পরিবার ইতিমধ্যে তাদের সন্তানদের মৃত্যুর বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চিত খবর পেয়েছেন বলে ওই গোয়েন্দা সূত্রটি জানিয়েছে| ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী এবং রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অনেক তরুণ উচ্চ বেতনের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন| তিনি এই পুরো বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কৈফিয়ত চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং গত কয়েক বছরে ঠিক কতজন বাংলাদেশিকে তারা ভিসা দিয়েছে এবং তাদের বর্তমান অবস্থা কী, তা জানতে চেয়েছেন|

একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ হাজার ৬১৮ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে| শরিফুল হাসান বলেন, এই বিশাল সংখ্যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন| ভিসা বা অনুমতি পেলেই তো আর বোঝা যায় না যে কতজন সেখানে সত্যি সত্যি কাজের জন্য গেছেন আর কতজন যুদ্ধক্ষেত্রে হারিয়ে গেছেন| অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এই বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা ও নীরবতার কড়া সমালোচনা করেছেন| তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন কর্মী সরকারি সব ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার পর সরাসরি অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করতে ফ্রন্টলাইনে চলে যায়? তিনি অভিযোগ করেন, গত এপ্রিলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর শেষে জানিয়েছিলেন যে মস্কো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী, আর এই ঘোষণাই দালালদের পাচারের কাজে আরও বেশি উৎসাহিত করেছিল| ব্র্যাকের মাইগ্রেশন সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল-আমিন নয়নও সরকারকে এই মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং নিখোঁজ তরুণদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা দ্রুত খুঁজে বের করার জোর দাবি জানিয়েছেন|

বিভিন্ন রাশিয়ান নিয়োগকারী ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো লাখ লাখ টাকা বেতনের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে| এমনকি কিছু ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে যে বাংলাদেশিরা যুদ্ধে গিয়ে প্রচুর টাকা কামাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে নিহত বা আহত হলে আদৌ কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় কি না, তার কোনো প্রমাণ নেই| এই পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়া দেখভালের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন| অন্যদিকে এসআরবি-১০ এর মেজর ইয়াসির জানান, দালালদের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি গত চার মাস ধরে তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি| ফলে সেই পরিবারগুলো এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে দিন পার করছে, তারা জানে না তাদের আদরের সন্তান বেঁচে আছে নাকি চিরতরে হারিয়ে গেছে ওই অচেনা বরফের দেশে| ভালো একটা চাকরির আশায় বিদেশে গিয়ে এই নিরীহ তরুণদের জীবন আজ এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে, যা এই মানব পাচার চক্রের মূলোৎপাটনের জরুরি দাবি জানাচ্ছে|

তথ্যসূত্র: ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category