• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
Headline
সৌদির বিচারব্যবস্থা নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র প্রশ্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সময়সীমা অনিশ্চিত বাঁওড় মৎস্য প্রকল্পে অসঙ্গতি: তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি বাংলাদেশি ওষুধ যাচ্ছে দেড়’শরও বেশি দেশে ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য আসামে দুই দিনে ১,১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ; গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়িঘর ও ১০ মসজিদ নতুন অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ চুরির দায়ে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে আপত্তি নেই, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: জামায়াত আমির রাজনীতিবিদদের রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গাজায় পুষ্টিহীনতার মরণফাঁদ: ইসরায়েলি বিধিনিষেধে বিপন্ন মা ও শিশুরা

Reporter Name / ১১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক বিপর্যয় এখন চরমে। ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় উপত্যকাটির নারী ও শিশুরা ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এমএসএফ-এর তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের চরম ঝুঁকি

এমএসএফ-এর পরিচালিত বিভিন্ন ক্লিনিকের তথ্যানুযায়ী, গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, নবজাতক এবং অল্পবয়সী শিশুরা। মাঠপর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকরা প্রতিদিনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন:

  • অপুষ্টির প্রভাব: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে মায়েদের শরীর ভেঙে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গর্ভস্থ শিশু ও নবজাতকদের ওপর।

  • মৃত্যুর হার বৃদ্ধি: গাজায় বর্তমানে গর্ভপাত, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং নবজাতকের মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

  • তীব্র অপুষ্টি: শিশুদের মধ্যে ‘সিভিয়ার ম্যালনিউট্রিশন’ বা তীব্র অপুষ্টির হার আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

অনেক মা চিকিৎসকদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, দিনের পর দিন অনাহারে বা আধা-াহারে থাকাই তাদের ও তাদের সন্তানদের এই পরিণতির প্রধান কারণ।


ত্রাণ সরবরাহে কৃত্রিম বাধা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের বিধিনিষেধ এখনো শিথিল হয়নি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী:

  • প্রয়োজনীয়তা: প্রতিদিন গড়ে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল।

  • বাস্তবতা: বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৫০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে।

এই বিশাল ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না, যা কৃত্রিমভাবে একটি দুর্ভিক্ষ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করছে।


বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় এখনই যদি পূর্ণমাত্রায় মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া না হয়, তবে অপুষ্টি ও অনাহারে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হবে। ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ না করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এমএসএফ। অন্যথায়, গাজার একটি পুরো প্রজন্ম স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়বে।


উৎস: আল জাজিরা এবং এমএসএফ (মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category