• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

গাজার এক বিষাদের দিন

Reporter Name / ০ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

বছরের পর বছর ধরে ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে ছিল প্রিয়জনদের অস্তিত্ব। দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে গাজার বিষাদগ্রস্ত মাটিতে শেষ ঠিকানা হলো ১১২ জন ফিলিস্তিনির। গাজা সিটির সবরা এলাকায় আয়োজিত এই জানাজা পরিণত হয় চলতি যুদ্ধের অন্যতম হৃদয়বিদারক দৃশ্যপটে।

ফিলিস্তিনের লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো সারিবদ্ধ কফিন, আর তার ওপরে আঁকা নিষ্পাপ শিশুদের ছবি; প্রতিটি ফ্রেমেই যেন ফুটে উঠছিল এক একটি স্তব্ধ হয়ে যাওয়া স্বপ্নের গল্প।

দুই হাজার তেইশের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নিমেষেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল আল-হুসাইনা এবং আবু শারিয়া পরিবারের অন্তত তিন শতাধিক মানুষ। বোমার আঘাতে ধুলোয় মিশে যাওয়া সেই ভবনের নিচে আটকা পড়ে ছিল একের পর এক প্রাণ। এতদিন পর সেই ধ্বংসস্তূপের আঁধার ফুঁড়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এই ১১২ জনের দেহাবশেষ। কিন্তু শোকের সীমা এখানেই শেষ নয়; এখনো দেড় শতাধিক স্বজন মাটির নিচে নিখোঁজ হয়ে আছেন। স্বজনদের আকুল প্রশ্ন, আড়াই বছরের নিষ্পাপ শিশুটির কী অপরাধ ছিল, যার জীবন প্রদীপ নিভে গেল নৃশংস এই হামলায়?

টানা বোমাবর্ষণ আর যুদ্ধের তাণ্ডবে তছনছ পুরো উপত্যকা। প্রায় তিয়াত্তর হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যুর মিছিলে আজ যুক্ত হলো আরও এক করুণ অধ্যায়। চোখের জল আর স্বজন হারানোর বুকফাটা হাহাকারকে সাক্ষী রেখে, এই জানাজা কেবল এক বিদায়ানুষ্ঠান নয়; বিশ্ববিবেকের কাছে এক নিপীড়িত জনপদের নীরব প্রতিবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category