রোগ, অসুখ-বিসুখ দেহে স্থায়ীভাবে গেড়ে বসার আগে কিছু আকার-ইঙ্গিত
দেয়। আমরা সেটাকে আমল দেই না। ধীরে ধীরে যখন জেঁকে বসে তখন
ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মুক্তির চিন্তা করি। কিন্তু রোগ সহজে মুক্তি দেয় না। এই
ধরুন, ঘাড় ব্যথা।
এমনই একজন রোগী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার ৪৬
বছর বয়সী নাসিমা বেগম। তিনি নিয়মিত হাঁটেন প্রতি সকালে। কিন্তু গত
ছয়মাস আগে হাঁটতে গিয়ে ডান কাঁধে ব্যথা পান। তখন থেকেই অল্প অল্প
ব্যথা কাঁধে অনুভব করেন তিনি। এখন ঘাড়ে ব্যথা, ঘাড় থেকে ব্যথা বাম
কাঁধে এবং হাতে চলে আসছে। তার বাম কাঁধের রোটেটর কাফ এবং
ক্যাপসুলের পরীক্ষা করে দেখলাম কোনো অসুবিধা নেই।
কিন্তু রোগী অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এরপর তার নেক বা ঘাড় পরীক্ষা করে
দেখলাম অনেক অসুবিধা আছে যেমন: ফরোয়ার্ড হেড পোশ্চার আছে, রাউন্ডেড
শোল্ডার আছে। বাম এবং ডানদিকে ঘাড়ের রোটেশন অনেক কমে গেছে।
বামদিকে নেক মাসলে এবং ট্রাপিজিয়াস মাসলে অনেক ব্যথা। এছাড়াও তার
মিডিয়ান নার্ভ টাইট হয়ে আছে। এ রোগীকে আমরা যতই শোল্ডারের (কাঁধ)
চিকিৎসা করি না কেন তার ব্যথা যাবে না। তার অসুবিধা হচ্ছে ঘাড়ে।
সুতরাং, ঘাড়ের সঠিক চিকিৎসা করলে রোগী ভালো বোধ করবে। তার
চিকিৎসা পদ্ধতি হবে—ওয়াক্সপ্যাক দিয়ে নেক ও ট্রাপিজিয়াস মাসলকে
স্ট্রোকিং করা। এরপর আল্ট্রাসাউন্ড দিতে হবে। তারপর ফিজিওথেরাপি
চিকিৎসার অন্যতম মোডালিটিস লো-লেভেল লেজার থেরাপি সঠিকভাবে
ব্যবহার করতে হবে। স্ট্রেচিং এ চিকিৎসায় অন্যতম উপাদান হিসেবে
কাজ করে। অতএব, নিয়ম অনুযায়ী স্ট্রেচিং করতে হবে।
মনে রাখবেন, আমাদের সমস্ত শরীরে ফাসা এবং মাসল ওতপ্রোতভাবে
জড়িয়ে আছে। যখনই কোনো রোগীর এরকম অসুবিধা হয় এবং দীর্ঘদিন
যাবত সঠিক চিকিৎসা হয় না, তাদের ফাসাগুলো মাসলের সঙ্গে টাইট হয়ে
যায়। অবশ্যই এই টাইট ফাসা এবং মাসলকে ফিজিওথেরাপি বিজ্ঞানীদের
নিয়ম অনুযায়ী রিলিজ করতে হবে। এরপরে নেক মাসলের শক্তি বাড়াতে
হবে। রেঞ্জ বা মুভমেন্ট বাড়াতে হবে। সর্বোপরি, নেককে স্ট্যাবিলাইজড
করতে হবে। উপুড় হয়ে এবং চিৎ হয়ে শুয়ে সঠিক নিয়মে নেকের পেছনের
এবং সামনের মাসলকে শক্তিশালী করতে হবে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের দেয়া উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত এক্সারসাইজ সঠিকভাবে করতে হবে।
বসা এবং শোয়ার ভঙ্গি মেনে চলতে হবে। যে কাজ করলে কষ্ট বেড়ে যায়
ওই কাজ করবেন না।
ঘাড়ের ব্যথা প্রতিরোধ, চিকিৎসার চেয়ে অনেক উপকারী, যেমন: সঠিকভাবে
ঘুমানো, কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় চোখের লেভেল ঠিক রাখা,
সঠিক ভঙ্গিতে ফোনে কথা বলা, প্রচুর পানি পান করা, হাতে ওজন ব্যবহার
করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে চলা। মাথা, ঘাড় ও কাঁধের সঠিক ভঙ্গি মেনে
চলা, ঘাড়ের মাংসের ট্রিগার পয়েন্ট রিলিফ করা, হুইফ্লাস প্রতিরোধ করা,
একই অবস্থায় বেশিক্ষণ কাজ না করা, প্রতিদিন ঘাড়ের মাংসের নিয়মিত
স্ট্রেসিং ও স্ট্রেন্দেনিং করা।
খাদ্য তালিকায় একটু পরিবর্তন আনতে হবে যেমন: প্রচুর পানি খেতে হবে,
দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। সঙ্গে আদা, পেঁপে ও হলুদ
খেতে হবে। সুপ্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ রোগে ভুগছেন তারা এ
চিকিৎসার মাধ্যমে আশা করি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন। মনে রাখবেন,
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সকল সেন্টারে একই রকম না-ও হতে পারে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার জন্য প্রতিটি এক্সারসাইজ ও মুভমেন্ট যেন রোগীর
কষ্ট অনুযায়ী সঠিক ব্যথার ক্ষতস্থানে পৌঁছায়।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের দেয়া উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত
এক্সারসাইজ সঠিকভাবে করতে হবে। বসা এবং শোয়ার ভঙ্গি মেনে চলতে
হবে। যে কাজ করলে কষ্ট বেড়ে যায় ওই কাজ করবেন না। ফার্মবেডে
ঘুমাবেন এবং যেভাবে ঘুমালে কষ্ট না হয় সেভাবে ঘাড়, মাথা রেখে
ঘুমাবেন। ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।