• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
Headline
তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা আকস্মিক বন্যায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আশুগঞ্জে শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সেই গাড়িটি এখনো সচল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের এনসিসিএফ গঠন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ১৮ ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চাল-গমের উপর নির্ভরতা কমাবে কাসাভা

Reporter Name / ২৬২ Time View
Update : শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৪

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়ে মানব জাতিসহ গৃহপালিত প্রাণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈরি আবহাওয়ায় ধান-গমের উৎপাদন কমছে। অপরদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। এ অবস্থায় ধান, গম, চালের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে কাসাভা।

কাসাভা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং প্রায় ৮০ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য, যা বাংলাদেশে শিমুল আলু হিসেবে পরিচিত। হেক্টরপ্রতি এই আলুর গড় ফলন ৩৫-৫০ টন যেখান ধানের গড় ফলন ২-৩ টন। পাতার ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ২৫ টন। এ ফসল চাষে মাটির ক্ষয় হয় বলে মূলত বাড়ির পাশের পতিত জমি ও পড়ে থাকা উঁচু জমিতে চাষের জন্য উপযুক্ত। এটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং কম উর্বর মাটিতেও জন্মাতে সক্ষম। তবে মানুষ ও প্রাণির জন্য এ খাবার সর্বাবস্থায় সিদ্ধ করে খেতে হবে।

প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে ৩০-৩৫ শতাংশ শর্করা, ০.৮-২.৭০ শতাংশ আমিষ, ০.৫-১.২ শতাংশ চর্বি, ০.৮ থেকে ২.৫ শতাংশ আঁশ, ০.৩-২.৬ শতাংশ খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি ও স্বল্প পরিমাণ লৌহ উপাদানও থাকে।

কাসাভার পাতায় ড্রাইম্যাটার (রোদে শুকানোর পরে অবশিষ্ট অংশ) থাকে ২০-৩০ শতাংশ, আমিষ থাকে শুকনো ওজনের ১৮-৩০ শতাংশ। এই গাছের পাতা, কাণ্ড এবং মূল সবকিছুই ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া পাতায় কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও লৌহ উপাদানও থাকে।

গত শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ-বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির। তিনি বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব এবং মাটির অনুর্বরতার বিবেচনায়, দেশের মানুষের শর্করার চাহিদা মেটাতে, বাংলাদেশে এ ফসলের মাঠ পর্যায়ের গবেষণা করে সফলতা পেয়েছেন।

সম্মেলনে গবেষক ছোলায়মান আলী ফকির জানান, কাসাভা সিদ্ধ করে, পুড়িয়ে এমনকি গোল আলুর মতো অন্যান্য তরকারির সঙ্গেও রান্না করে খাওয়া যায়। কাসাভা আটা গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি, পরোটা, কেক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

আমেরিকার দেশ হাইতি, মেক্সিকান রিপাবলিক, পেরাগুয়ে, পেরু, আফ্রিকার তানজনিয়া, কেনিয়া, জাম্ববিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া এবং এশিয়ার ভিয়েতনাম, ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু এবং ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনে এই আলু স্যুপ, চিপস, ট্যাপিওকা (সাগুসদৃশ খাবার), পুডিং ইত্যাদি হিসেবে খাওয়া হয়। এছাড়া কাসাভার পাতার প্রক্রিয়াজাতকরণের পর উদ্ভাবিত পিলেট এবং আটা গরু, ছাগল, মহিষ, মাছ ও পোলট্রিকে খাবার হিসেবে দেওয়া যায়।

ছোলায়মান জানান,  কাসাভা গাছের সর্বত্র বিষাক্ত সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড থাকে। তাই বিষাক্ত কিছু জাতের কাসাভার ডগা এবং পাতা খেয়ে গবাদি পশু মারা যেতে পারে। তবে সিদ্ধ বা প্রক্রিয়াজাত করলে এই বিষক্রিয়া আর থাকে না। তাই কাসাভা আটা/স্টার্চ সম্পূর্ণ নিরাপদ। আলু উত্তোলনে মাটি ক্ষয় হওয়ার কারণে ফসলী জমিতে চাষ না করাই উত্তম। এজন্য বড় পরিসরে ব্যাণিজিক ভাবে এর চাষ না করে মাঝারি বা ছোট পরিসরে চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category