• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
Headline
গ্রামে মারাত্মক লোডশেডিং: জ্বালানি সংকট উত্তরণে মন্ত্রীদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান রিজভীর আরও ১০০০ মাদ্রাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালুর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর বিবি আছিয়া: নারী সমাজের এক অনন্য অনুপ্রেরণা যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ আদর্শের লড়াইয়ে বিজেপিকে কেবল কংগ্রেসই হারাতে পারে: রাহুল গান্ধি বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বার্তা দুই দশক পর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌর নির্বাচন হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়: ইরানের কোষাগারে জমা হলো প্রথম আয়

জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার: উপকূলে স্থবিরতা, কর্মহীন লাখো জেলে

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার এক ভয়াবহ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে। তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে নদ-নদীর ঘাটে ঘাটে এখন সারি সারি নৌকা ও ট্রলার অলস পড়ে আছে। একদিকে পাম্পগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড, অন্যদিকে খোলাবাজারে আকাশছোঁয়া দাম—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে লাখো জেলে বর্তমানে সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলো নদীতে বা সাগরে নামতে না পারায় জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও অনাহার।

মৎস্য খাতের পরিসংখ্যানগুলো এই সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তোলে। দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ হলেও বাস্তবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ লাখের বেশি। নদী ও সাগরে মাছ ধরার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলারের অন্তত ১৫ থেকে ২৫ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০-১০৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৫০-১৭০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে ট্রলার পরিচালনার ব্যয় একধাক্কায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ জেলেদের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব। জ্বালানির এই আকালের কারণে এরই মধ্যে দেশজুড়ে মাছ আহরণের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

উপকূলীয় জেলাগুলোর চিত্র এখন চরম হতাশাজনক। শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে শুরু করে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর, খুলনার কয়রা, সুন্দরবনের দুবলার চর কিংবা উত্তরের কুড়িগ্রামের চিলমারী—সব জায়গাতেই হাহাকার। শরীয়তপুরে যেখানে প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা, সেখানে মাত্র ১০ শতাংশ নৌযান কোনোমতে তেল জোগাড় করতে পারছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্যবন্দর পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুরে প্রতিদিনের ৩০-৩৫ হাজার লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র চার-পাঁচ হাজার লিটার। ফলে বরফকল, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীসহ পুরো মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত ট্রলার ঘাটে বাঁধা থাকায় অনেক আড়ত কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই চরম দুর্দশার মধ্যেই জেলেদের জন্য আরেক অশনিসংকেত হয়ে আসছে আসন্ন নিষেধাজ্ঞা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে সাগরে ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে। বছরে ইলিশ রক্ষা, জাটকা নিধন রোধ ও প্রজনন মৌসুম মিলিয়ে মোট ১৪৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এর মধ্যে বর্তমান ডিজেল সংকটের কারণে ভরা মৌসুমেও মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বরগুনার বদরখালী এবং কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।

সার্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন যে, ঈদের পর হঠাৎ করেই নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে জ্বালানির এই সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মৎস্যজীবীদের এই দুরবস্থার বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে দ্রুত এই জ্বালানি সংকটের সমাধান ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের বিশাল সামুদ্রিক অর্থনীতি ও লাখো জেলের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category