ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে মার্কিন অভিবাসন নীতিতে বইছে চরম কড়াকড়ির হাওয়া। বিশেষ করে ‘আমেরিকা-বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত বিদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটি আর নিরাপদ থাকছে না। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের দুই প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার স্বজনদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালিয়েছে মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করা হামিদেহ সোলেমানি আফশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত প্রধান কাশেম সোলেমানির ভাতিজি। তার সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার মেয়েকেও।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হামিদেহ সোলেমানি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসে মার্কিন নাগরিক সুবিধা ভোগ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আইআরজিসি-র ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনাগুলোকে তিনি প্রকাশ্যে ‘উদযাপন’ করতেন। সম্প্রতি তার মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এসব উসকানিমূলক পোস্টের প্রমাণ মিলেছে।
সোলেমানি পরিবারের পাশাপাশি খড়গ নেমে এসেছে ড. আলী লারিজানির পরিবারের ওপরও। গত ১৭ মার্চ মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত লারিজানি ছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব। তার মেয়ে ফাতিমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং জামাতা সৈয়দ কালান্টার মোতামেদি দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাদের আইনি মর্যাদা (Legal Status) বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই দম্পতিকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের দেশকে এমন বিদেশি নাগরিকদের আবাসে পরিণত হতে দেবে না, যারা আমেরিকার নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং আমেরিকাবিরোধী শাসনকে সরাসরি সমর্থন জোগায়।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই বাগদাদে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন কাশেম সোলেমানি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ‘অপারেশন এনিমি ক্লিনআপ’ আরও জোরদার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানি নেতাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা কেবল শুরু; সামনের দিনগুলোতে ইরানপন্থী আরও অনেক অভিবাসীর ওপর এই খড়গ নেমে আসতে পারে।
এদিকে তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইরানের ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তারা জানিয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি বর্তমানে ‘ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (ICE)-এর হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত ইরানে ফেরত পাঠানো হবে।
| ব্যক্তির নাম | পরিচয় | গৃহীত পদক্ষেপ | প্রধান অভিযোগ |
|---|---|---|---|
| হামিদেহ সোলেমানি আফশার | কাসেম সোলেমানির ভাতিজি | গ্রিন কার্ড বাতিল ও গ্রেপ্তার | আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা ও আইআরজিসি সমর্থন |
| সোলেমানির নাতনি | সোলেমানির বংশধর | আইসিই (ICE) হেফাজতে | মার্কিন বিরোধী প্রচারণা ও উগ্রবাদে উসকানি |
| ফাতিমেহ লারিজানি | ড. আলী লারিজানির মেয়ে | স্থায়ী বহিষ্কার | জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি |
| সৈয়দ কালান্টার মোতামেদি | ড. লারিজানির জামাতা | প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞা | আমেরিকাবিরোধী শাসনকে সমর্থন |