ইসলামী বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খালি চোখে চাঁদ দেখার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে দিনের আলোতে দেখা মিলেছে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাসের প্রথম একফালি চাঁদের। সাধারণত সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদ দেখার প্রথা থাকলেও, এবার দিনের বেলাতেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই অর্ধচন্দ্রের বিরল ছবি ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আর এই চাঁদ দেখার মধ্য দিয়েই পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।
গালফ নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রবিবার (১৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আবুধাবিতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের (আইএসি) অধিভুক্ত ‘আল খাতিম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি’ থেকে চাঁদের এই ছবিটি তোলা হয়। এই বিরল ও নিখুঁত ছবিটি ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শওকত ওদেহ। এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণে তাঁকে নিবিড়ভাবে সহায়তা করেছেন পর্যবেক্ষণাগার দলের অন্যান্য সদস্য—খালফান আল নুয়াইমি, ওসামা গান্নাম এবং আনাস মোহাম্মদ।
জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রটি জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণের সময় চাঁদটি সূর্য থেকে মাত্র ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করছিল এবং নতুন এই চাঁদের বয়স ছিল আনুমানিক মাত্র নয় ঘণ্টা। দিনের বেলা সূর্যের তীব্র আলো এবং বায়ুমণ্ডলের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এত কম বয়সী ও সূক্ষ্ম চাঁদের ছবি তোলা মহাকাশ বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারণ করা হয় পবিত্র জিলহজ মাসের শুরু, যার সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের পবিত্র হজ পালন এবং ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের হিসাব এবং এই আগাম চাঁদ দেখার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ ইসলামী দেশে সোমবার (১৮ মে) থেকে পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হতে যাচ্ছে। আর সেই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু অংশে স্থানীয় আবহাওয়া ও দৃষ্টিসীমার ওপর নির্ভর করে চাঁদের দৃশ্যমানতায় কিছুটা তারতম্য হতে পারে। তাই এই বৈজ্ঞানিক হিসাবের পাশাপাশি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর খালি চোখে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই আরব আমিরাতের ফতোয়া কাউন্সিল এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে।