• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ: স্বাধীনতার আঁতুড়ঘরে এবার নেই কোনো সরকারি আয়োজন বিরিয়ানিতে মেশানো হচ্ছে ডায়ালাইসিসের কেমিক্যাল: রাজধানীতে অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য অনলাইনে কালোবাজারি: ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় মুজিবনগর দিবস আজ: সরকার বদলালেও সংস্কার হয়নি, ধ্বংসস্তূপেই পড়ে আছে স্বাধীনতার স্মারক ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের মেগাপরিকল্পনা সরকারের পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগের উদ্যোগ বিষাক্ত আবর্জনা ও দূষণে মৃত্যুর মুখে ঢাকার লেকগুলো: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী এআই কি কেড়ে নেবে শিল্পীর জায়গা? হলিউড-বলিউডের তারকারা যা বলছেন মাঠের জাদুকর এবার মালিকের চেয়ারে: স্প্যানিশ ক্লাব কিনে নিলেন লিওনেল মেসি

দিল্লির প্রস্তাব সুকৌশলে ওড়ালেন শেখ হাসিনা

শান্তনা রহমান / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনোভাবেই তার দল আওয়ামী লীগের ‘সংস্কারকৃত’ বা নতুন কোনো কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন না। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দুটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প দেওয়া হয়েছিল—হয় তাকে কাতার চলে যেতে হবে, নতুবা দলের একটি নতুন ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব (রিফাইন্ড ভার্সন) মেনে নিতে হবে। কিন্তু তিনি এই দুটি প্রস্তাবই সুকৌশলে খারিজ করে দিয়েছেন। তার বদ্ধমূল ধারণা, ভারতের আশ্রয় ছেড়ে কাতারে যাওয়ার অর্থই হলো দলের ওপর থেকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য চিরতরে হারিয়ে ফেলা।

কূটনৈতিক মহলের বার্তা ও মাঠের বাস্তবতা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তার নেতৃত্বে দলটির পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো এখন প্রায় অসম্ভব। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে চালানো ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি দেশের মানুষের মনে এখনো দগদগে, যার ফলে জনরোষ চরমে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে দলটির কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব বা প্রশাসনিক সমর্থন অবশিষ্ট নেই। শীর্ষস্থানীয় নেতারা হয় ভারতে নয়তো অন্য দেশে পালিয়ে আছেন এবং তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে। দল গোছানোর মতো কোনো কার্যকর উদ্যোগও চোখে পড়ছে না। এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেই শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

নয়াদিল্লির উৎসাহ হারানো ও হাসিনার হতাশা

দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েক দফা নিষ্ফল আলোচনার পর ভারত সরকার এখন বিষয়টি নিয়ে অনেকটাই আগ্রহ হারিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গটি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পাস হওয়া অধ্যাদেশ নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি। ভারতের এই নীরবতা ও পরিবর্তিত আচরণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই।

সাবের হোসেনকে নিয়ে ব্যর্থ উদ্যোগ ও ভারতের কৌশল বদল

এর আগে সাবের হোসেন চৌধুরীকে সামনে রেখে দলটির একটি পরিচ্ছন্ন সংস্করণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এতে শেখ হাসিনা চরম ক্ষুব্ধ হওয়ায় সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে এবং সাবের হোসেনও আকস্মিকভাবে দৃশ্যপট থেকে সরে যান। নির্বাচনের আগে এমন একটি বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভারতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা তাদের কৌশল বদলান। যার ফলশ্রুতিতে সে সময় তারা বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

পরিবারের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরে জটিলতা

প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন তার পরিবারেরই অন্য কোনো সদস্য দলের হাল ধরুক। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে এই পরিকল্পনার পক্ষে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমনকি তিনি নিজে থেকে তার ভাগনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকেও শীর্ষ পদে বসানোর ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন (সবুজ সংকেত) দেননি। সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় সময় যত গড়াচ্ছে, আত্মগোপনে থাকা সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম হতাশা কেবলই ঘনীভূত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category