দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিভাজন তৈরির সুযোগ নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্বার্থের রাজনীতি করতে চায়, কিন্তু আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে তা সফল হবে না।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ধর্ম মানুষের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং একে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করাই বর্তমান লক্ষ।
তিনি আরও বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করে। এমনকি তারা মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখায়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমাদের উচিত এই বৈচিত্র্যের মাঝেও নিজেদের মধ্যকার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা।”
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জটিল পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হলেও সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি তেল পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে (Panic Buying) অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমরা সত্য ও ন্যায়কে ভিত্তি করে দেশকে একটি সমৃদ্ধ আগামীর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”