• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline

নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার

Reporter Name / ৮০ Time View
Update : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবিচল ও জোরালো অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের (সিএসডব্লিউ) ৭০তম অধিবেশনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। নারী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রতি ঢাকার পূর্ণ সমর্থনের বিষয়টি বিশ্বনেতাদের সামনে স্পষ্ট করেন।

জাতিসংঘের এই মর্যাদাপূর্ণ অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একজন নারীর পরিচয় বা তাঁর আর্থসামাজিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, দেশের প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য আইনি সুরক্ষার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থায় এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তাঁরা যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ভোগ করতে পারবেন। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারী সদস্যদের অসামান্য ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন, যা বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তবে একই সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের উদীয়মান সংকটগুলোর কথাও তিনি তুলে ধরেন। ড. খলিলুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন সংঘাত এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বিভাজন নারীর ক্ষমতায়নের পথে নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আর এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোতে বসবাসকারী নারীদের ওপর।

এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অধিবেশনে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিচার ব্যবস্থায় নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের নারীর অবস্থা বিষয়ক এই ৭০তম অধিবেশনটি আগামীকাল ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category