• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক আরশাদের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টির সুযোগ অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতিবাদ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত মক্কা চুক্তি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়, অন্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

পদ্মা ব্যারেজ বনাম ফারাক্কা: গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষে ঘুরে যাচ্ছে ভূ-রাজনীতির খেলা?

Reporter Name / ৮৩ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের মেঘ জমতে শুরু করেছে। ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশকে মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে লাখো মানুষ নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। আজ পঞ্চাশ বছর পর সেই ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে আবারও চরম উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে। এর মূল কারণ, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই। বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী এই চুক্তি নবায়ন না হলে দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা যে কঠিন হবে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ফারাক্কা কেবল একটি বাঁধের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্বের এক লড়াই। ১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানী হাসপাতাল ছেড়ে এসে বলেছিলেন, ফারাক্কা বাঁধ না ভাঙলে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যাবে। আজ তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী অনেকটাই নির্মম বাস্তব। শুষ্ক মৌসুমে প্রমত্তা পদ্মা আজ পরিণত হয় ধুধু বালুচরে। পানির অভাবে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প আজ প্রায় ধ্বংসের পথে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৬০ থেকে ১০০ ফুট নিচে নেমে গেছে। নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে, যার ফলে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। অন্যদিকে বর্ষাকালে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ায় বন্যায় ভাসে বাংলাদেশ।

এই মেগা সংকটের মাঝেই গত ১৬ মে ফারাক্কা দিবসে রাজধানীর দুটি পৃথক সমাবেশ থেকে ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ভেস্তে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারের উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তবে বাংলাদেশ এবার আর শুধু চিঠিপত্র চালাচালি বা আলোচনার আশায় বসে নেই। ভারত যাতে একতরফা পানি প্রত্যাহারের সুযোগ না পায়, সেজন্য বর্তমান সরকার এক বিশাল মাস্টারস্ট্রোক চালতে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বহু প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে। এই ব্যারেজ নির্মিত হলে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করা যাবে। এটি ভারতের ওপর একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে। এর পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচিকেও নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বাংলাদেশ আবারও একতরফা পানি আগ্রাসনের শিকার হতে পারে। তাই আবেগের রাজনীতি ছেড়ে এখন তথ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, ফারাক্কা ইস্যুতে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও বাংলাদেশের পক্ষে কাজে লাগাতে হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যেমনটা উল্লেখ করেছেন, ফারাক্কার কুপ্রভাব শুধু বাংলাদেশেই পড়ছে না, খোদ ভারতেও পড়ছে। গঙ্গার উজানে পলি জমে ভারতের বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ এই ক্ষোভের সাথে সংযোগ তৈরি করা এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কৌশলগত সুযোগ। পঞ্চাশ বছর আগে মওলানা ভাসানী সেদিন একাই লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের এই সন্ধিক্ষণে এটি আর কোনো একক সংগ্রাম নয়, বরং সমগ্র জাতির বাঁচার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category