• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
Headline
সৌদির বিচারব্যবস্থা নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র প্রশ্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সময়সীমা অনিশ্চিত বাঁওড় মৎস্য প্রকল্পে অসঙ্গতি: তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি বাংলাদেশি ওষুধ যাচ্ছে দেড়’শরও বেশি দেশে ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য আসামে দুই দিনে ১,১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ; গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়িঘর ও ১০ মসজিদ নতুন অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ চুরির দায়ে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে আপত্তি নেই, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: জামায়াত আমির রাজনীতিবিদদের রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণ: ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত

Reporter Name / ১১১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চিরস্থায়ী উত্তেজনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছরের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) আয়োজিত এই সম্মেলনে ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন ভারতের বয়ান বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:


‘মারকা-ই-হক’-এর কৌশলগত ফলাফল

জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী গত এক বছরের সামরিক ও কৌশলগত পরিস্থিতির ১০টি ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মতে:

  • ভারতীয় বয়ানের পতন: কোনো প্রমাণ ছাড়াই সন্ত্রাসবাদের সাথে পাকিস্তানকে যুক্ত করার ভারতীয় চেষ্টা ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। পেহেলগাম হামলার এক বছর পরও ভারত কোনো অকাট্য প্রমাণ দিতে পারেনি।

  • নিরাপত্তার প্রধান শক্তি: পাকিস্তান নিজেকে এই অঞ্চলের ‘নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি’ এবং বর্তমান নেতৃত্বকে ‘নিরাপত্তা দূত’ হিসেবে দাবি করেছে।

  • তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা: ভারতীয় গণমাধ্যম ও তাদের ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক বাহিনী

আইএসপিআর প্রধান ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে বলেন:

“ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ ঘটেছে। ওদের সামরিক বাহিনী আগে পেশাদার ছিল, কিন্তু এখন তা বিপজ্জনকভাবে রাজনীতিকরণ হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এখন ‘যুদ্ধবাজদের’ মতো, যা এই অঞ্চলের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়া তিনি ভারতের সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়টিকে ‘ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ ও অহংকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।


কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু

কাশ্মীর প্রসঙ্গে আহমেদ শরিফ চৌধুরী আবারও স্পষ্ট করেন যে:

  • কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

  • সেখানে জনসংখ্যার চিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না।

  • ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং এ কাজে তারা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করছে।


আফগানিস্তান প্রসঙ্গ

পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলার পর পাকিস্তানে হামলার হার কমে এসেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আফগান তালেবান সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।


বিশ্লেষণ:

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে খুবই ক্ষীণ। ‘মারকা-ই-হক’-এর বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের এই ‘ভিক্টরি’ বা বিজয় দাবি মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ জনমতকে চাঙ্গা রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা কমানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category