• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
দুই মাসেই তলানিতে বিএনপির জনপ্রিয়তা, সরকারের দলীয়করণ নিয়ে তোপ নাহিদের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার, বিয়ামের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা গণভোটের ৭০ শতাংশ রায় উপেক্ষিত, নতুন ফ্যাসিবাদ নিয়ে বিএনপিকে জামায়াতের তোপ ১ মে পল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ, নির্বাচন নিয়ে জামায়াতকে ফখরুলের তোপ বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নতুন কড়াকড়ি রাজধানীর ৮০ পাম্পে ১২ লাখ বাইকের জটলা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে? “ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইরানে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ, যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের জোর প্রস্তুতি জামায়াতের ‘লাফিং গ্যাস’: যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এটি মারাত্মক আসক্তির কারণ হয়ে উঠেছে

পুঁজি‌বাজারে এক দিনেই সূচক কমল ২৩১ পয়েন্ট, আস্থাহীনতায় দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

Reporter Name / ৬৮ Time View
Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দেশের পুঁজিবাজারে আজ এক প্রলয়ংকরী ধস নেমেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩১.৮৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৮.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকের এমন বড় পতন বিনিয়োগকারী মহলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পতনের নেপথ্যে প্রধান দুই কারণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই রেকর্ড পতনের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে: ১. বিএসইসি প্রশাসনে অস্থিরতা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পরিবর্তন এবং প্রাক্তন সিনিয়র সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের গুঞ্জন। এই পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হওয়ায় বাজারে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২. ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক আতঙ্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

বাজারের চিত্র: ৩৭১টি কোম্পানির দরপতন

আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ১০টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনেকটা ‘লজ্জাবতী গাছের’ মতো, যা সামান্য অনিশ্চয়তা বা গুজব পেলেই দ্রুত নেতিয়ে পড়ে। আজকের পতন সেই ভঙ্গুর মানসিকতারই প্রতিফলন।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ

টানা সূচক পতন এবং লেনদেন কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। গত দেড় বছর ধরে বর্তমান কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। অনেকের মতে, কার্যকর তদারকি ও আস্থার অভাব বাজারকে এই খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। ২০১০ সালের ধসের স্মৃতি মনে করে অনেক বিনিয়োগকারী এখন তাদের সঞ্চিত অর্থ হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে সিদ্ধান্তহীনতার কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি দ্রুত নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাজারের গতিপথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category