প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে অফিস করলেন দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় তিনি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে তাঁর নির্ধারিত চেম্বারে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সেখানে চলমান সংসদ অধিবেশন এবং দেশের সার্বিক সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় বৈঠক শেষ করেই তিনি সরাসরি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে দুপুর আড়াইটা থেকেই নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে নয়াপল্টন মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় পর দলীয় কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (SSF) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য কার্যালয় ও এর চারপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। ভিড় সামলাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা করবে। এটি সরকারের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।