• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাগিদ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে, সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেই বৈঠকের সূত্র ধরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিমসটেক সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেক হিসেবে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং সেই চিঠিটি আমাদের সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ একটা আছে সেখানে, সেটা আমরা দেখব কোনো এক সময়ে।’

সাক্ষাৎকারে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে উঠে এসেছে। আমরা ভারতকে বলেছি এই প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে।’

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান, সেটি আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে। তারা গতকালও আমাদের জানিয়েছে এবং আজ প্রধানমন্ত্রীকেও একই কথা বলেছে।’

ভারত এ বিষয়ে কোনো দুঃখ প্রকাশ করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নয় তো। একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ থাকে, নির্বাহী, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তার বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের আওতাধীন। বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। সাধারণত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কোনো বক্তব্য থাকলে তিনি আদালতে বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যা করেছেন, তা মূলত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি তথা রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। এবং ভারত সরকার তাকে সেই কাজটি করতে দিয়েছে। আমরা চাই বিশ্বের সকল দেশ আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ধারণা, আমাদের সঙ্গে আলোচনার পর ভারত বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কোনো কাজ তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category