জেলায় বিগত ১০ মাসে ১ হাজার ৪৮টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২শ’ ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এসব অভিযানে গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রায় ৪৩ কেজি গাঁজা, ৯ হাজার ১শ’ ৯৮ পিস ইয়াবা, ১শ’ ৪৫ বিদেশি মদ, ৫ হাজার ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২০.৫ লিটার চোলাই মদ, ৩০ ক্যান বিয়ার, ১৬ বোতল ফেয়ারডিল, ২৫ পিস শাড়ি, ১টি দেশীয় পাইগান, ১টি মোবাইল সেট ও ১ লাখ ৬১ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭২টি নিয়মিত মামলা ও ১শ’ ৬৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এরমধ্যে গ্রেফতার করা হয় ২শ’ ৩০ জনকে এবং পলাতক রয়েছে ১৯ জন।
সূত্র আরও জানায়, জানুয়ারিতে ১শ’ ২টি অভিযানে ২৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮৮টি অভিযানে ২২ জন, মার্চে ১শ’ ২৪টি অভিযানে ২৩ জন, এপ্রিলে ৯৩টি অভিযানে ২০ জন, মে মাসে ১শ’ ৫৪টি অভিযানে ২৬ জন, জুনে ১শ’ ৪টি অভিযানে ২৫ জন, জুলাইয়ে ৮৮টি অভিযানে ১৯ জন, আগস্টে ১শ’ টি অভিযানে ২৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৯২টি অভিযানে ১৯ জন ও অক্টোবরে ১শ’ ৩টি অভিযানে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এরমধ্যে নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়. ২শ’ ৩৫টি। জানুয়ারিতে ২৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি, মার্চে ২৩টি, এপ্রিলে ২০টি, মে মাসে ২৬টি, জুনে ২৫টি, জুলাইতে ১৯টি, আগস্টে ২৭টি, সেপ্টেম্বরে ২১টি ও অক্টোবরে ২৩টি নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জীবন বড়ুয়া বাসসকে বলেন, আমরা প্রতিদিন কয়েকটি টিম আলাদা আলাদাভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করছে বিচারকবৃন্দ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বাসসকে বলেন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পুরো জেলায় মাদক বিরোধী অভিযান, সভা সমাবেশ, পথ সভা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক মাদকবিরোধী সমাবেশ করে আসছি।
এছাড়াও যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবলসহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করে আসছি। জেলাটি সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় মাদক কারবারিরা এ রুটকে নিরাপদ মনে করে।
তবে জেলা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, এসআরবি, বিজিবির পাশাপাশি আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ফেনীবাসীর সহযোগিতা পেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।