মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্রের কম্পন—এই দুইয়ের মাঝে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধ কেবল ভূ-রাজনীতি নয়, বরং বাংলাদেশের শ্রমবাজারকেও এক মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সংঘাত আর দুই সপ্তাহ দীর্ঘায়িত হলে ধসে পড়তে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও গ্রামীণ অর্থনীতি।
দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো নিরাপদ শহরগুলোতেও এখন হামলার আতঙ্ক। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে একাধিকবার হামলার ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। দুবাইয়ে কর্মরত বাংলাদেশি ডেন্টিস্ট নওরীন মেহজাবীন দীতি জানান, “সারাক্ষণ আতঙ্ক তাড়া করছে কখন মাথার ওপর ড্রোন বা মিসাইল এসে পড়ে। দুই দিন ধরে কাজে যেতে পারছি না, দেশে ফেরার পথও বন্ধ।” শুধু নওরীন নন, নির্মাণাধীন বড় প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক এখন কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার কখনোই পূর্ণ মাত্রায় চাঙা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলেও অনেক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখা দিলেও যুদ্ধ সেই আশায় গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব (৬৭% শ্রমবাজারের অংশীদার), কাতার, কুয়েত ও আমিরাত—প্রতিটি দেশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে আক্রান্ত।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে:
ফ্লাইট স্থগিত: আকাশপথ বন্ধ থাকায় ছুটিতে আসা হাজার হাজার প্রবাসী কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।
ভিসা জটিলতা: যুদ্ধের অজুহাতে অনেক কোম্পানি ভিসার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
আর্থিক বিপর্যয়: রেমিট্যান্স প্রবাহ বন্ধ হলে জ্বালানি আমদানি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারাবে বাংলাদেশ, যা অর্থনীতিতে বড় ধরনের মড়ক ডেকে আনতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ বলেন, “যুদ্ধ আর দুই সপ্তাহ চললে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অচল হয়ে পড়বে। এই যুদ্ধে যুক্ত না থেকেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।” অন্যদিকে বায়রা (BAIRA) নেতা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে গণহারে চাকরিচ্যুতি ঘটবে এবং নতুন কর্মী যাওয়ার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাবে।
| দেশ | অবস্থান (বাজার হিসেবে) | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| সৌদি আরব | ১ম (৬৭%) | তীব্র ঝুঁকি ও মিসাইল আতঙ্ক |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৬ষ্ঠ | বিমানবন্দরে হামলা ও অচলাবস্থা |
| কাতার ও কুয়েত | ২য় ও ৪র্থ | আকাশপথ বন্ধ ও প্রজেক্ট স্থগিত |
| রেমিট্যান্স (২০২৫) | ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার (সর্বোচ্চ) | |