মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থি অপশক্তি আবারও নতুন চেহারায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করেছিল, তারাই আজ ভিন্ন মোড়কে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে দেশবাসীকে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি এখন নতুন চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। এদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর যে কোনো আঘাত মোকাবিলায় আমাদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তি ভিন্ন কৌশলে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে।
দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের অতীতচারিতা বর্জন করতে হবে। কেবল পেছনের দিকে তাকালে দেশ এগোবে না। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।” তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন সব ধরনের ষড়যন্ত্র পরাজিত করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “আমি নিজে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়মিত দেখি না। তবে যারা দেখেন, তারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হচ্ছেন তারেক রহমান।”
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সকল প্রতিকূলতা জয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।