• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
রং-বেরঙের বিয়ে এবং পেছনের গল্প রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে মারধর-হেনস্তা, প্রতিষ্ঠান বন্ধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ২০২৩ সালে ধর্মীয়-সামাজিক সংঘাত শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ: পিউ রিসার্চ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি রাজনৈতিক আনুগত্যের কাছে জিম্মি উপাচার্য নিয়োগ: নীতিমালার অভাবে অন্ধকারে দেশের উচ্চশিক্ষা শুল্ক হ্রাসের তিন মাস: সিন্ডিকেটের অজুহাত আর অব্যবস্থাপনায় আটকে আছে ভোক্তার স্বস্তি বিশ্বকাপের পর মেসির হ্যাটট্রিক ইউরোপে পরমাণু হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

মামলার চেয়ে অপরাধ বহুগুণ: পথ চলতে ছিনতাই আতঙ্ক

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ পথচারীদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র। পাড়া-মহল্লার অন্ধকার অলিগলি পেরিয়ে এখন শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া নিরাপত্তার ভিআইপি সড়কেও নির্বিঘ্নে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকার সামনে চলন্ত রিকশা থেকে ব্যাগ টান দিয়ে স্কুলপ্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনকে ফেলে হত্যা করার ঘটনা ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া রূপ এবং মহানগরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে আবারও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, পুলিশের খাতায় যে কয়টি মামলা নথিভুক্ত হয়, তা দিয়ে মাঠের বাস্তব চিত্র বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি বা রক্তক্ষয়ী প্রাণহানি না ঘটলে সাধারণ ভুক্তভোগীরা পুলিশি হয়রানি ও ঝামেলার ভয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে চান না।
পুলিশ সদর দপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) সারা দেশে মোট ১ হাজার ৬৭টি ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই (ডিএমপি ও ঢাকা রেঞ্জ মিলিয়ে) মামলা হয়েছে ৪৪৩টি, যা সারা দেশে হওয়া মোট মামলার প্রায় ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ৪৪৩টি মামলার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানা এলাকাতেই দায়ের হয়েছে ১৮৯টি মামলা এবং ঢাকা রেঞ্জের অন্যান্য জেলায় হয়েছে ২৫৪টি। মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ১৬৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৩৪টি, মার্চে ১৪২টি, এপ্রিলে ১৫২টি, মে মাসে ১৬৭টি, জুনে ১৪৯টি এবং জুলাই মাসে ১৬০টি মামলা নথিভুক্ত হয়।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামলার সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ২০৯টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ১২০টি, খুলনায় ১০২টি, সিলেটে ৬৬টি, রংপুরে ৪৩টি, ময়মনসিংহে ৩৩টি এবং বরিশাল বিভাগে ৩০টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে এলাকা ও ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১টি।
গত শনিবার ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে বগুড়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সাথে রিকশায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিণত হন। হ্যাঁচকা টানে তাঁর হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এছাড়া গত ১০ আগস্ট উত্তরার মতো ব্যস্ত এলাকায় পেট্রোল পাম্পের গাড়ি থামিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিনদুপুরে ছিনতাই করে নিয়ে যায় সশস্ত্র মোটরসাইকেল আরোহীরা। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধসহ নগরের বিভিন্ন প্রান্তে পথচারীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পুলিশ ও অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, রাজধানীর অতি ঘনবসতি, বিপুল মানুষের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল, নগদ অর্থের অনিরাপদ লেনদেন, রাত ও ভোরের নির্জন সড়ক এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় অপরাধীরা ঢাকাকে প্রধান অভয়ারণ্য হিসেবে বেছে নেয়। এর বাইরে রাতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকা এবং নির্জন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলের বড় ধরনের ঘাটতি অপরাধীদের সাহস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করলেও আইনের ফাঁকফোকর ও দুর্বল তদন্তের সুযোগে খুব দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও একই ছিনতাই পেশায় লিপ্ত হচ্ছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক উল্লেখ করেন যে, চলন্ত রিকশায় থাকা নারী যাত্রীদের টার্গেট করে মোটরসাইকেল দিয়ে ব্যাগ ছিনতাই নগরের একটি ভয়ংকর কৌশলে রূপ নিয়েছে। এতে কেবল মালামাল খোয়া যাচ্ছে না, বরং গুরুতর জখম ও অকাল প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল তালিকা করে আটক বা গ্রেপ্তার করলেই ছিনতাই বন্ধ হবে না; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে, যাতে তা অন্য অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে থানাভিত্তিক পেশাদার ছিনতাইকারীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তবে আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোয় ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে সারা দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে টহল কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category