• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
Headline
গ্রামে মারাত্মক লোডশেডিং: জ্বালানি সংকট উত্তরণে মন্ত্রীদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান রিজভীর আরও ১০০০ মাদ্রাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালুর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর বিবি আছিয়া: নারী সমাজের এক অনন্য অনুপ্রেরণা যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ আদর্শের লড়াইয়ে বিজেপিকে কেবল কংগ্রেসই হারাতে পারে: রাহুল গান্ধি বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বার্তা দুই দশক পর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌর নির্বাচন হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়: ইরানের কোষাগারে জমা হলো প্রথম আয়

মার্কিন দূতাবাসের জন্য বিশেষ ‘স্পিয়ার’ ইউনিট: পুলিশের প্রাথমিক সবুজ সংকেত

Reporter Name / ২০ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব ফের আলোচনায় এসেছে। নবনির্বাচিত সরকারের কাছে পেশ করা এই প্রস্তাবে বাংলাদেশ পুলিশ প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ কর্মসূচি ‘স্পিয়ার’ (SPEAR)-এর অধীনে এই বাহিনী পরিচালিত হবে।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নতুন মোড়

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল। সেই সময় পুলিশের যুক্তি ছিল, একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য আলাদা বাহিনী গঠন করা হলে তা অন্যান্য বিদেশি মিশনগুলোর মধ্যে বৈষম্য তৈরি করবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বরফ গলতে শুরু করে।

ইউনিটের কাঠামো ও নেতৃত্ব

প্রস্তাবিত এই বিশেষ ইউনিটে প্রাথমিকভাবে ৩০ জন সদস্য থাকবেন। যদিও দূতাবাস শুরুতে তাদের নিজস্ব ‘রিজিওনাল সিকিউরিটি অফিসার’ (আরএসও)-কে এই ইউনিটের প্রধান করার দাবি জানিয়েছিল, তবে বাংলাদেশ পুলিশের আপত্তির মুখে তারা দেশের একজন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)-এর অধীনে এই কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে।

কেন এই বিশেষ ইউনিটের প্রয়োজন?

মূলত ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন মিশনগুলোতে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৪ সাল থেকে ‘স্পিয়ার’ (Special Program for Embassy Augmentation and Response) প্রোগ্রাম চালু করে। এর লক্ষ্য হলো:

  • স্বাগতিক দেশের পুলিশ বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি কুইক রেসপন্স টিম তৈরি করা।

  • যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা হামলার মুখে কয়েক মিনিটের মধ্যে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  • ইরাক, তিউনিসিয়া, নাইজার ও কেনিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে বর্তমানে এই প্রোগ্রাম সফলভাবে কার্যকর রয়েছে।

বৈষম্যের আশঙ্কা ও কূটনৈতিক উদ্বেগ

মার্কিন দূতাবাসের জন্য এমন বিশেষ ব্যবস্থার খবরে অন্যান্য কূটনৈতিক মহলে কিছুটা অসন্তোষের মেঘ জমছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল একটি দেশের জন্য বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করলে অন্য মিশনগুলোও একই দাবি তুলতে পারে।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন:

“যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ যৌক্তিক হতে পারে, তবে কোনো পক্ষপাতমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং বাংলাদেশের পুরো ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন’-কে উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা উচিত। এতে সবার নিরাপত্তা সুসংহত হবে।”

প্রেক্ষাপট ও অতীত ইতিহাস

২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের জন্য বরাদ্দকৃত অতিরিক্ত পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এরপর থেকে মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মকর্তাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মানের এই ‘স্পিয়ার’ ইউনিট গঠনের জন্য বারবার চাপ দিয়ে আসছে।

প্রাথমিক সম্মতি মিললেও এই ইউনিটের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং মোতায়েনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি পুলিশ সদর দপ্তর বা মার্কিন দূতাবাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category