রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক এলাকায় সোমবার রাতে বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নামের জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সাবেক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মলিবাগের আনারকলি মার্কেটের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক সহকর্মী এবং স্বজনেরা রাতেই হাসপাতালে ভিড় করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার বিল্লাল হোসেন তালুকদার গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালিবাগে সংঘটিত একটি বড় ধরণের সহিংস ঘটনার জেরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত দূরপাল্লার বাস সার্ভিস ‘সোহাগ পরিবহন’-এর প্রধান কার্যালয় এবং কোম্পানির মালিকের ব্যক্তিগত বাসভবনে এক নজিরবিহীন ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ওই হামলায় সোহাগ পরিবহনের মালিকের ভাইসহ অন্তত সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনার পর সোহাগ পরিবহনের মালিক মো. ফারুক তালুকদার লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে, বিল্লাল হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে ও নির্দেশেই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারকে টার্গেট করে ওই পৈশাচিক হামলাটি চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর দলটির হাইকমান্ড কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে বিল্লাল হোসেনকে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল স্তরের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে এই চাঁদাবাজি ও হামলার মামলায় থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখতে ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।