• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধের মুখে দেশের শত শত কারখানা ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে ৪২ শতাংশ খেলাপি শিল্পকলায় রুনা লায়লার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান বেআইনি রাজসাক্ষী বানানোর তদন্তে চার মাসেও মেলেনি রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী সোনার খাঁচার দিনগুলো বন্দি করার উপায় এবং একটি ঝাপসা ছবির গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা

Reporter Name / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি বা ইউএসটিআর (USTR) কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ ধারার আওতায় এই শুল্ককাঠামো বলবৎ করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালার অধীনে বিভিন্ন দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে, যা বিদ্যমান মোস্ট-ফেভার্ড নেশন বা এমএফএন (MFN) শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে গণনা করা হবে। ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই বিশ্বজনীন সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারে প্রবেশকারী প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ আমদানিকৃত পণ্যই অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন তৈরি করলেও শুল্কের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য এটি নতুন এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার বার্তা বয়ে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই বৈশ্বিক শুল্ক তালিকার বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, তদন্তের মুখোমুখি হওয়া ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাকি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের ধাক্কায় পড়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য এই দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক থাকবে। অন্যদিকে কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো বাংলাদেশের মতোই সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক কাঠামোর ভেতরেই স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার সাড়ে ১২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করা এবং শ্রমিকের আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষা করতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, তাদেরকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশের তালিকায় রাখা হয়েছে। আর যারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ওপর সর্বোচ্চ শুল্কের বোঝা চাপানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো সম্ভাবনাময় চারটি দেশের জন্য তিন বছর মেয়াদী ট্যারিফ-রেট কোটা বা টিআরকিউ (TRQ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউএসটিআর। এই সুবিধাটি চূড়ান্ত হলে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও সুতা ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক পুরোপুরি মওকুফ হয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে বহুলাংশে তরান্বিত করবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর সুরক্ষাবাদী শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে কোম্পানিগুলোকে কোটি কোটি ডলার কর ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর, হোয়াইট হাউস সেকশন ৩০১ এর মতো বিকল্প আইনি পথ বেছে নিয়ে এই নতুন কর আরোপ করল। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য, অনৈতিক ও খামখেয়ালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি ব্রাজিল। একইভাবে জাপান সরকার এমন সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং অস্ট্রেলিয়া ও চীন এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়মের লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, আমদানিকারকদের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কফি, মাইক্রোওয়েভ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বর্তাবে।

এমন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উত্তেজনার মুখে বাংলাদেশের সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান রক্ষায় বাংলাদেশ সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্কের হার আড়াই শতাংশ কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান আরও মজবুত হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয় রেখে দেশীয় পণ্যের সক্ষমতা বাড়ানো, তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটাতে সরকার যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে, ওয়াশিংটনের এই নতুন বাণিজ্য নীতি পুরো বিশ্বের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করলেও সাশ্রয়ী শুল্ক সুবিধা ও টিআরকিউ সুবিধার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রভাব ও হিস্যা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার নতুন সুযোগ উন্মোচিত হলো।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা ও বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category