শুরুর চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের দায়িত্বশীল ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৬৬ রানের সম্মানজনক টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
শুরুতেই ব্যাটিং ধস
ইনিংসের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান কোনো রান করার আগেই ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, মাত্র ১ রান করে আউট হন। এরপর সৌম্য সরকার ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হলে মারাত্মক চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
শান্ত-লিটনের ১৬০ রানের জুটি
খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে এই যুগল ১৬০ রানের একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়েন।
৭০ বল খেলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। শেষ পর্যন্ত ১১৪ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ১০৫ রানে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৯ ইনিংস পর লিটন দাসও ফিফটির দেখা পান। ৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৯১ বলে ৭৬ রান নিয়ে জেডেন লেনক্সের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
শেষদিকের লড়াই
লিটনের বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন শান্ত। তবে ৪৮তম ওভারে দলীয় ২৫৬ রানে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হওয়ার পর, পরের ওভারেই আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৩৩ রানের সুবাদে ২৬৫ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয় দল।
লঙ্কান বোলারদের নৈপুণ্য
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন উইল ও’রুর্ক, তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া বেন লিস্টার ও জেডেন লেনক্স ২টি করে এবং ডিন ফক্সক্রফট ১টি উইকেট তুলে নেন।
এখন সিরিজ নিজেদের করে নিতে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ২৬৬ রান, আর বাংলাদেশের বোলারদের লক্ষ্য এই রান ডিফেন্ড করা।